খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফাইনালে জুলাই যেন আর্জেন্টিনার অভিশাপ!

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা মানেই আবেগ, ঐতিহ্য আর নান্দনিকতার আরেক নাম। দিয়েগো মারাদোনা থেকে লিওনেল মেসি—প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে অসংখ্য কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাদের সাফল্য ঈর্ষণীয়। তবে গৌরবের এই পথচলায় এমন কিছু ক্ষতও রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে মুছে যায়নি। কাকতালীয়ভাবে সেই বেদনাগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে একটি মাস—জুলাই।

এ পর্যন্ত ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে তারা। কিন্তু বাকি তিনটি ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে শেষ বাঁশির সঙ্গে। আরও বিস্ময়কর বিষয়, তিনটি পরাজয়ই এসেছে জুলাই মাসে। তাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে জুলাই যেন আর্জেন্টিনার জন্য এক বিষাদময় অধ্যায়ের নাম।

১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের একটি মুহূর্ত।
১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের একটি মুহূর্ত।

প্রথম আঘাতটি আসে ১৯৩০ সালের ৩০ জুলাই। ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক উরুগুয়ের বিপক্ষে ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। মন্টেভিডিওর এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। শিরোপা তখন হাতছানি দিচ্ছিল। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে উরুগুয়ে টানা তিন গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় ৪-২ ব্যবধানে। প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা যেমন যায় স্বাগতিকদের ঘরে, তেমনি জুলাই মাসে ফাইনাল হারের প্রথম তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আর্জেন্টিনা।

এর ঠিক ৬০ বছর পর আবারও জুলাই মাসে ফাইনাল হারের যন্ত্রণা ফিরে আসে আলবিসেলেস্তেদের জীবনে। ১৯৯০ সালের ৮ জুলাই ইতালির রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানি। দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল দলটি। দীর্ঘ সময় দুই দলই লড়াই চালালেও ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে পেনাল্টি পায় পশ্চিম জার্মানি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্দ্রেয়াস ব্রেহমে একমাত্র গোলটি করেন। ১-০ ব্যবধানের সেই পরাজয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, আর মারাদোনার অশ্রুসিক্ত মুখ হয়ে আছে সেই রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবি।

সেই রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবি মারাদোনার অশ্রুসিক্ত মুখ
সেই রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবি মারাদোনার অশ্রুসিক্ত মুখ

জুলাইয়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতিটি আসে ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই। ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার। কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবে আবারও দাঁড়িয়ে ছিল জার্মানি। নির্ধারিত সময়ে গনসালো হিগুয়েন, মেসি ও রদ্রিগো পালাসিও একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন। সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হয় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১১৩তম মিনিটে মারিও গোটশের একমাত্র গোলে আবারও শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। ১-০ ব্যবধানের সেই হার শুধু আরেকটি ফাইনাল পরাজয়ই নয়, জুলাই মাসে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার তৃতীয় দুঃসহ স্মৃতিও হয়ে যায়। একই সঙ্গে অপূর্ণ থেকে যায় মেসির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

 মেসির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে যায়
মেসির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে যায়

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা যেমন তিনবার শিরোপা জিতে গৌরবের চূড়ায় উঠেছে, তেমনি জুলাই মাসও তাদের মনে করিয়ে দেয় তিনটি অসমাপ্ত গল্পের কথা। ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪—এই তিনটি বছর শুধু পরাজয়ের নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের তিনটি গভীর আবেগঘন অধ্যায়, যা আজও আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের হৃদয়ে বয়ে বেড়ানো এক অমলিন বেদনার নাম।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিশ্বকাপ #ফিফা #জুলাই #আর্জেন্টিনা