২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার চালু হওয়া বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফিফার প্রধান ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার।
শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়েঙ্গার বলেন, তিন মিনিটের এই বিরতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বা ম্যাচের মান কতটা উন্নত করেছে, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অনেক সমর্থকের মধ্যেও এ নিয়ম নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
তিনি বলেন, “ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্য। তাই তাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্ট শেষে সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে বিশ্বকাপে চালু হওয়া আরেকটি নতুন নিয়ম—চিকিৎসা নেওয়ার পর একজন খেলোয়াড়কে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে—এটিকে ইতিবাচক বলে মনে করছে ফিফা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়মের ফলে চিকিৎসাজনিত কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সংখ্যা আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কমেছে।
অন্যদিকে, হাইড্রেশন বিরতি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, শীতল আবহাওয়া বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামেও একই নিয়ম প্রয়োগের যৌক্তিকতা নেই। অনেকের অভিযোগ, এই বিরতির ফলে সম্প্রচারকারীরা অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া ফুটবলপ্রেমীদের একটি অংশের মতে, মাঝপথের এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। এতে পিছিয়ে থাকা দল কৌশল সাজানোর অতিরিক্ত সুযোগ পায়, যা ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ফলে হাইড্রেশন বিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে টুর্নামেন্ট-পরবর্তী ফিফার সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর ফুটবল বিশ্বের।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএ//