খেলাধুলা

টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে পাঁচ বড় শক্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মহারণে এবার মুখোমুখি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসতে যাওয়া এই স্বপ্নের ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে ফল নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের চোখে সামান্য হলেও এগিয়ে রয়েছে স্পেন। তাদের মতে, বর্তমান ফর্ম, দলগত সমন্বয় এবং পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে ‘লা রোজা’র দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।

টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল টানা ৩৭টি ম্যাচে হারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে এমন ছন্দ ধরে রাখা শুধু আক্রমণভাগের দক্ষতারই প্রমাণ নয়, কঠিন মুহূর্ত সামলে ওঠার সামর্থ্যও তুলে ধরে। ফাইনালেও জয় পেলে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অপরাজিত অভিযানের মালিক হবে স্পেন।

পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য

শুধু অপরাজিত থাকাই নয়, নকআউট পর্বে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স—তিনটি কঠিন পরীক্ষাই তারা পেরিয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারানো স্প্যানিশদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তরুণদের দুরন্ত উত্থান

লামিনে ইয়ামাল, পাও কুবারসিসহ স্পেনের তরুণ ফুটবলাররা পুরো আসরজুড়ে নজর কেড়েছেন। তাদের গতি, সৃজনশীলতা এবং নির্ভীক ফুটবল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলটিকে দিয়েছে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য, যা বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলই সবচেয়ে বড় তারকা

স্পেনের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ তাদের দলগত ফুটবল। কোনো একক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে বল দখল, দ্রুত পাস বিনিময়, উচ্চচাপের প্রেসিং এবং রক্ষণে সমন্বিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। সাবেক স্পেন কোচ হুলেন লোপেতেগুইয়ের মূল্যায়নও একই—এই সমন্বিত ফুটবল থামানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন।

ইতিহাস কি আবারও ফিরবে?

২০১০ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই বিশ্বকাপে এসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল স্পেন। এবারও একই পরিচয়ে বিশ্বকাপ খেলছে তারা। তাই অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরতে পারে ‘লা রোজা’।

তবে শিরোপার পথ মোটেও সহজ নয়। প্রতিপক্ষে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা এবং শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য স্পেনের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

তারপরও বর্তমান ফর্ম, ধারাবাহিকতা এবং দলগত শক্তির বিচারে অনেক বিশ্লেষকের চোখে ফাইনালের আগে সামান্য এগিয়ে স্পেনই। এখন অপেক্ষা শুধু শেষ নব্বই মিনিটের—শেষ হাসিটা কে হাসবে, তার উত্তর মিলবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসেই।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিশ্বকাপ #ফিফা ফাইনাল #স্পেন #আর্জেন্টিনা #ইয়ামাল