বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক মোবাইল ফোনে ইকনকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ইকন দাড়িয়া সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার (৪৫) ছোট ছেলে। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পরিবারের খরচ চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি টাকা উত্তোলন বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।
ফারহান ইশতিয়াক গণমাধ্যমকে জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন ইকনকে চাকরি করতে না হয়, সে জন্য আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া পরীক্ষা শেষে উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যৎ পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপরই তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করলেও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হয়ে ওঠেন ইকন।
ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে। তার দাদা বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত থাকায় পরিবারটি দীর্ঘদিন বাগেরহাটে বসবাস করে। দাদার অবসরের পর তিনি গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা ও বড় ভাইকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে ইকনের পরিবার।
শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইকন গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী তাকে ফোন করেন। তিনি জানান, আপাতত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তার পড়াশোনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, ইকন ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় কি না। জবাবে ইকন বলেন, তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান।
এসি//