আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে মার্কিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে তলব এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে এএফএ। সংস্থাটির স্পষ্ট বক্তব্য, তাপিয়া কিংবা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার আগে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এফবিআই কর্মকর্তারা তাপিয়া ও তোভিগিনোকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তাপিয়ার মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর সোমবার একটি ভাড়া করা বিমানে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এএফএর এই দুই কর্মকর্তা। রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে থাকা একটি বাসে তাদের প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তবে বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে এএফএ।
সংস্থাটি জানায়, তাপিয়া বা তোভিগিনোর কাউকেই মার্কিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়নি। একই সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংস্থা জব্দ করেনি।
এএফএ আরও জানায়, আলোচিত আইনি নথিতে সভাপতি বা কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ নেই। আদালতে হাজিরা, আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ কিংবা তাদের কোনো সম্পদ জব্দের বিষয়েও সেখানে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে তৃতীয় এক ব্যক্তিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি এএফএর কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি আর্জেন্টিনার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে দাবি করেছে, এএফএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। দেশটির ফুটবল অর্থনীতি ঘিরে চলমান বৃহত্তর আর্থিক তদন্তের অংশ হিসেবেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তাপিয়া ও তোভিগিনোকে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ সম্পর্কে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। তবে এফবিআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এসি//