ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার পর এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
আদালতের নির্দেশে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন শিশুটির বাবা।
শিশুটির বাবা পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
তিনি জানান, সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় তার ছেলে পড়াশোনা করে এবং আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সেখানেই থাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন ধরে বাড়িতে এলে শিশুটিকে মনমরা অবস্থায় দেখা যেত। ঠিকমতো কথা বলত না, খাবারেও আগ্রহ দেখাত না। মাদরাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করলেও পড়াশোনার চাপের কারণে এমনটা করছে বলে প্রথমে মনে করেছিলেন তারা।
পরে মাদরাসার আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে শিশুটিকে বলাৎকারের শিকার করার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন তার বাবা। ওই অভিভাবক জানান, কয়েক দিন আগে এ নিয়ে মাদরাসায় বিচারও হয়েছিল। এরপর শিশুটিকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি।
পরিবারের কাছে গত ১৪ আগস্ট শিশুটি নির্যাতনের কথা জানায়।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ছেলেকে বলাৎকার করে।
বিষয়টি জানার পর মাদরাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমের কাছে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
বরং বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।
এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে পরিচিত এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই চিকিৎসক দ্রুত তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
এরপর গত ১৮ আগস্ট শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সেদিনই শিশুটিকে সেখানে ভর্তি করা হয়। পরে চার দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় বলে জানান শিশুটির বাবা।
পরবর্তী সময়ে পরিচিত এক আইনজীবীর সহায়তায় আদালতে মামলা করেন শিশুটির বাবা। আদালত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণের পর সাভার মডেল থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলার পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. সামিরুল হাসান জানান, শিশুটিকে বলাৎকার এবং এতে সহায়তার অভিযোগে চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। অন্য তিন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বলাৎকারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি হওয়ায় ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম বলেন, শিশুটির বাবা সরাসরি থানায় এসে মামলা করলে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যেত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের সুযোগও তৈরি হতো। তবে বর্তমানে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এসি//