রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে বাক্প্রতিবন্ধী নির্মাণশ্রমিক মেহেদীকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় আজান আলী শরিফ (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ওই কিশোরই গাড়িটি চালাচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বারিধারা ১ নম্বর সড়কে জার্মান দূতাবাসের কাছে দ্রুতগতির একটি কালো এসইউভি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে থাকা ২৪ বছর বয়সী মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে বের হওয়া আজানকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশের দাবি, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নিরাপদে রাখতে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পর নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামে একজনকে গাড়িটির চালক হিসেবে আসামি করা হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মামলায় ওই গাড়ির চালকের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে দুর্ঘটনার পর চালকের আসন থেকে ওই কিশোর বেরিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।‘
পরে গুলশান-১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা চালককেও খুঁজতেছি। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’
এ ঘটনায় প্রকৃত দোষী শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমএ//