রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরেও থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অস্থায়ীভাবে বসে চলছে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচিসহ সীমিত স্বাস্থ্যসেবা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানিয়েছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন’।
ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না’।
এদিকে টিকা নিতে আসা শিশুর অভিভভাবক ওস্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হামের টিকা দিতে কেন্দ্রে এসেছেন। ছোটোবেলায় তাকেও তার বাবা এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো, যা তাদের জন্য খুবই কষ্টের। গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শোনেন নাই এটি অন্য কারও জমি।
এখান থেকেই পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা যেন পায়। সরকার দ্রুত যেন কেন্দ্রটি সংস্কার করে সেবা পুনরায় চালু করে এমন দাবি তাদের।
আই/এ