আন্তর্জাতিক

মহাঅষ্টমীতে তন্ত্রসাধনার নামে স্ত্রী-বাবাকে গলা কেটে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর সন্ধ্যায় তন্ত্রসাধনার নামে ঘটে গেল নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ড। স্ত্রী ও বাবাকে কুঠার দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা মন্দিরের বেদিতে উৎসর্গ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে মঙ্গল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর নিজের একটি আঙুল কেটে সেই রক্ত স্ত্রীর কাটা মাথায় মাখিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন মঙ্গলের স্ত্রী রম্পা চৌধুরী ও তার বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী। তন্ত্রসাধনার অংশ হিসেবে তাদের বলি দেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

স্ত্রীর কাটা মাথা নিয়ে মঙ্গলকে মন্দিরের দিকে যেতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মঙ্গলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় বাড়ির উঠান থেকে রাজেন্দ্র চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুঠারটিও জব্দ করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গল পুলিশকে জানান, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজার বিশেষ মুহূর্তে তন্ত্রসাধনার অংশ হিসেবেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। নিজের আঙুল কেটে রক্ত দেওয়ার ঘটনাটিও ওই সাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঙুলের চিকিৎসা শেষে মঙ্গলকে বাঁকুড়া আদালতে হাজির করা হলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করা হয়। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে কেউ প্ররোচনা দিয়েছেন বা পরামর্শ দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিতের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দুর্গাপূজার সন্ধিপূজার সময় দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করে চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেছিলেন। প্রচলিত প্রথায় এ সময় ১০৮টি পদ্ম ও প্রদীপের মাধ্যমে পূজা করা হয়। অতীতে বলির প্রচলন থাকলেও বর্তমানে অনেক স্থানে প্রতীকী হিসেবে সবজি বলি দেওয়া হয়। তবে সেই ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জোড়া হত্যাকাণ্ড #দুর্গাপূজা #তন্ত্রসাধনা