আন্তর্জাতিক

গোঁফওয়ালা নবজাতকের ভিডিও ভাইরাল, এআই নাকি আসল ভিডিও?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জন্মের পরপরই মুখভর্তি ঘন গোঁফ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিও ঘিরে চলছে নানা আলোচনা ও হাস্যরস। ইকুয়েডর থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা ভিডিওটিতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক নবজাতকের ওপরের ঠোঁটে কালো ও পরিপাটি গোঁফ দেখা যায়। তবে ভিডিওটি আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনরা নানা রসিকতায় মেতেছেন।

একজন লিখেছেন, ‘ছেলেটা কিন্ডারগার্টেন বাদ দিয়ে সরাসরি মধ্যবয়সে চলে গেছে।’

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘জন্মের সময়ই অবসরপ্রাপ্ত—তিন সন্তান আর দুটি বাড়ির ঋণ নিয়ে এসেছে।’

অন্য একজনের রসিকতা করে লিখেছেন, ‘বয়স মাত্র দুই ঘণ্টা, অথচ দেখেই মনে হচ্ছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করে ক্লান্ত।’

শুধু মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি নেটিজেনরা। শিশুটিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা মজার ছবি ও মিম।

একটি ছবিতে তাকে সোনালি কারুকাজ করা সামরিক পোশাকে উত্তর কোরিয়ার পতাকার সামনে বসানো হয়েছে। সামনে রাখা টেবিলে লেখা ‘সুপ্রিম লিডার’। অন্য একটি ছবিতে শিশুটিকে স্যুট পরা অবস্থায় হাতে সিগার নিয়ে দেখা যায়। কেউ তাকে সুপার মারিও, আবার কেউ প্রাচীন চীনের হান রাজবংশের যোদ্ধার বেশেও উপস্থাপন করেছেন।

তবে হাস্যরসের পাশাপাশি নবজাতকের মুখে এমন গোঁফ থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, গর্ভে থাকাকালে শিশুর শরীরে ল্যানুগো নামে একধরনের সূক্ষ্ম ও নরম লোম তৈরি হয়। সাধারণত জন্মের আগেই এসব লোম ঝরে যায়। তবে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুসহ কিছু নবজাতকের শরীরে জন্মের সময়ও ল্যানুগো থাকতে পারে। এসব লোম সাধারণত পিঠ, কাঁধ, কপাল ও গালে দেখা যায়। কিন্তু ল্যানুগো খুবই পাতলা, নরম ও হালকা রঙের হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মতো ঘন, কালো ও সুস্পষ্ট আকৃতির গোঁফের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। তাই ভিডিওতে দেখা চেহারাটি স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখের গোঁফ বলে ধরে নেওয়ার যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

ভিডিওটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এতে ডিজিটাল সম্পাদনা বা বিশেষ কোনো ফিল্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকজন ব্যবহারকারীও ভিডিওতে সম্ভাব্য কারসাজির লক্ষণ থাকার কথা জানিয়েছেন।

তারা জানান, শিশুটি মুখ নাড়ালে বা চোখ কুঁচকালে গোঁফের প্রান্তে সামান্য পরিবর্তন ও ঝাপসাভাব দেখা যায়। গোঁফের ওপর আলোর প্রভাবও শিশুটির মুখের স্বাভাবিক আলোর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তারা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #নবজাতক #গোঁফ #ইকুয়েডর