ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তায়, তখন তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের হিসাব বদলে দেওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার দাবি, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর পর নির্বাচনী পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন আর নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা নয়, বরং অচলাবস্থা কিংবা নেতানিয়াহুর জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এমন দাবি করেন ট্রাম্প।
ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ও গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বুথফেরত জরিপেও দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়।
কান ১১ ও চ্যানেল ১৩-এর জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট এবং বিরোধী জোট—উভয়েই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২ এবং বিরোধী জোটের ৪৯টি।
ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। ফলে বুথফেরত জরিপের হিসাবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। চূড়ান্ত ফলের পাশাপাশি অন্য দলগুলোর সমর্থনও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ডানপন্থী দলগুলোকে একজোট হয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন তিনি।
তবে জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক জোট সম্মিলিতভাবে ১৭ থেকে ১৮টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের অনেকে বুথফেরত জরিপের ফলকে নেতানিয়াহুর জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। তবে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকেও এখনই স্পষ্ট বিজয়ী বলা যাচ্ছে না। কারণ, কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে চূড়ান্ত ভোটের ফল ও জোট গঠনের সমীকরণের ওপর। ট্রাম্পের সমর্থন নির্বাচনের হিসাব বদলে দিয়েছে বলে দাবি করা হলেও, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এসি//