দেশজুড়ে

ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উন্মোচন করলো পুলিশ

বরগুনায় ডাকবাংলোর দুটি আলাদা কক্ষ থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের আলোচিত মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঋণে জর্জরিত হয়ে আগে দুই মেয়েকে হত্যা করে, পরে মা আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত ৯ জুন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন এই তথ্য জানান।

পুলিশ জানিয়েছে,   গত ৩ জুন বেলা ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ডাকবাংলোয় যান। তিনি ওই বাংলোতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন। পরে ওইদিন দুপুরের দিকে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে অন্য কর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) এবং বন্ধ থাকা কক্ষের ভেতর থেকে মা ইতি রাণী (৩৪) ও ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করে।

সাংসারিক অবস্থা ও স্বামীর ব্যাবসায় উন্নতির জন্য স্থানীয় পাঁচটি এনজিও থেকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা ঋণ নেয় ইতি রানী। এ ছাড়া স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসও একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং আলাদা দুই ব্যক্তির থেকে আরও ১ লাখ টাকা ধার নেন। এ হিসাব অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে মোট ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

মো. মুকিত হাসান খাঁন জানান, ভুক্তভোগী ইতি রানীর স্বামীর কোনো জমি নেই এবং পুত্রসন্তানও নেই। স্বামীর আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায়, বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিক দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্তা হয়ে পড়েন ইতি রানী। আর এ কারণেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত  নেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে। অতি শিগগিরই আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বরগুনা #মা #মরদেহ