প্রবাস

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

প্রবাস ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। নিহতরা তিনটি পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। নিহত ও আহত সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

স্থানীয় সময় শনিবার (০৭ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী,  ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মোট ১৩ জন বাংলাদেশি হতাহত হন।

নিহতদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন, আলম শাহের পরিবারের দুজন এবং ইলিয়াসের পরিবারের একজন রয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের পরিবারের নিহত চার সদস্য হলেন তিনি নিজে, তার মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। তাদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ পরিবারের আহত দুজন হলেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা। শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতাল এবং ইউসরা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ যথাক্রমে আল-হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তার ছেলে ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তৃতীয় পরিবারের সদস্য ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েক দিন আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া আহত আরেক বাংলাদেশি গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার ছিল। ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।

কনস্যুলেট আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে চারজন আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানিটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক সালমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চার কর্মী তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়িটিতে ছিলেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। কনস্যুলেটের শ্রম কাউন্সেলর একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সৌদি আরব #কনস্যুলেট