ঢাকা , ১৮ ২০১৯ ,

রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে কোথায় থাকবে এটি বাংলাদেশের বিষয় নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৫:০৪ অপরাহ্ন | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
feature-top

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে কোথায় থাকবে এই বিষয়টি বাংলাদেশের দেখার বিষয় নয়, সেটা মিয়ানমারই বুঝবে। বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এসডিজি ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ইতোমধ্যেই বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। তাই তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আশা করে রোহিঙ্গারা দ্রুত ফিরবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ফিরে কোথায় থাকবে এটি মিয়ানমারের বিষয়। রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান মিয়ানমারের হাতেই।  

তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই বলে আসছি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কিংবা স্থানান্তর কোনোটাই আমরা জোর করে করব না। তবে আমরা আশা করব, মিয়ানমার এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার পরিচয় দেবে।

এ সময় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি শরণার্থীদের উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার সময় ঘরবাড়ির কথা ভাবা হয়নি। ফিরে এসে নিজেরাই ঘরবাড়ি তৈরি করে নিয়েছেন তারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আসে তখন কিন্তু ঘরবাড়ির চিন্তা করেনি। যখন তাদের যাওয়া শুরু হবে গিয়ে ঠিকই ঘরবাড়ি তৈরি করবে। না গেলে কীভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করবে?

তবে মিয়ানমার আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমার নিশ্চয় তারা কোনো অ্যারেঞ্জমেন্ট করবে। বারবার আমাদের কাছে ওয়াদা করেছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন, মিয়ানমার কিছুদিন আগেও রাখাইনে কাউকে নিতে রাজি ছিল না। সম্প্রতি সেখানে কয়েকজন রাষ্ট্রদূতসহ আরও কয়েকজনতে তারা রাখাইনে নিতে সম্মতি জানিয়েছে। রাষ্ট্রদূতরা সেখানে যাবেন। পরিস্থিতি দেখবেন।

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমারের দায়িত্ব তাদের নিরাপত্তা দেয়া। তারা যেন নিরাপদ বোধ করে নিজ দেশে ফিরে যায় সেই দায়িত্ব মিয়ানমারের।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভাষানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ির জায়গায় সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালিত তাণ্ডবে ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে পুলিশের ব্যারাক, সরকারি বিল্ডিং ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র। এক সরকারি ট্যুরে বিবিসি চারটি নিরাপদ অঞ্চলের সন্ধান পেয়েছে। 

মিথুন 

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top