ঢাকা , ১৬ ২০১৯ ,

আবরার হত্যার দায় স্বীকার করলেন আসামিরা

বায়ান্ন অনলাইন রিপোর্ট | ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ৪:৪৩ অপরাহ্ন | আপডেট : ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ৫:১২ অপরাহ্ন
feature-top

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীরা। 

মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ তথ্য জানান। 

মাহবুবুর আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ১০ জনকে ঘটনার পর থেকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হত্যাকাণ্ডের সময় কে কি করেছেন, কার ভূমিকা কি ছিল, হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে লাশ বের করা পর্যন্ত সব তথ্য দিয়েছেন তারা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য যে আসামি রয়েছে তাদের ব্যাপারে নজরদারি শুরু হয়েছে। তারাও যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারে। এজন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

গতকাল সোমবার ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

সোমবার রাতে হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। 

গ্রেফতার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১০ নেতাকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত এ আদেশ দেন।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে গ্রেফতার ১০ শিক্ষার্থীকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক কবীর হোসেন হায়দার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

আবরার হত্যার ঘটনায় পুলিশ যে কয়েকজনকে আটক করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ছাত্রলীগ নেতা রবিন, মুন্না, তানভীরুল আরেফিন ইথান, অমিত সাহা ও আল জামি।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের মুক্তিযোদ্ধা রোডে। বাবার নাম বরকত উল্লাহ।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় আবরারের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে আবরারের তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গায়েবী জানাজা হয়েছে। 

আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বিচার দাবি করেন। 

এদিকে আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়েছে। এতে শিক্ষকরাও একাত্বতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বুয়েট অনিদিষ্টিকালের বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মিথুন 

feature-top
feature-top

আরও খবর »

feature-top