Connect with us

পরামর্শ

রাতে ঘুমানোর আগে যে কাজটি করেন সব সুখী দম্পতি

Avatar of author

Published

on

সঙ্গীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রত্যেকেই চেষ্টা চালান। নিজের মনের মতো গড়েন ভালোবাসার ঘর। একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেও ভুলেন না তারা। তবে সেটাই কি এক সুখী দম্পতির পরিচয়? নাকি দাম্পত্যে সুখ অটুট রাখতে ভাবতে হয় আরও অনেক দিক!

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রত্যেক দম্পতিকেই বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। তাহলেই সম্পর্কে সুখ অটুট থাকে আর সেরকম সমস্যাও হয় না। সেই পাঁচটি কাজ হচ্ছে-

ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরিহার করুন

সঙ্গীর পাশে শুয়ে শুধু শুধু মোবাইল স্ক্রিন স্ক্রোল করবেন না। এতে আপনাদের সম্পর্কেই খারাপ প্রভাব পড়বে। হয়তো আপনার সঙ্গী সামান্য সময়ের প্রত্যাশা করে রয়েছেন আর আপনি মোবাইল দেখে যাচ্ছেন, তারপরেও কী ভাবে সব ঠিক থাকবে বলুন?

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে বিরতি দিন। তার পরিবর্তে সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটান।

Advertisement

মনের কথা বলুন সঙ্গীর সঙ্গে

ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুজনে মুখোমুখি বসে কিংবা শুয়ে দুটো মনের কথা বলুন। সারাদিনের ভালো-মন্দ সময় নিয়ে আলোচনা করুন। সঙ্গীর কোন কাজটি আপনার সেদিন বেশ ভালো লেগেছে, সে কথা তাকে জানান। দেখবেন মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে যাবে।

সঙ্গীর সামান্য প্রশংসা করুন

সঙ্গীর মন রাখতে টুকটাক প্রশংসা করতেই পারেন। তাই না? এতে তার মুখেও হাসি ফোটে আর আপনাদের সম্পর্কের রোমান্সও অটুট থাকে। আপনি হয়তো জানেন না, অধিকাংশ সুখী দম্পতিই কিন্তু এই বিশেষ নিয়মটি মেনে চলেন।

‘ভালোবাসি’ শব্দের অনেক জোর

Advertisement

সারাদিন আপনারা দুজনেই খুব ব্যস্ত ছিলেন। তাই একে অপরের জন্যে আলাদা করে সময় বের করতে পারেননি। কিন্তু রাতে শোওয়ার আগে তো একটু সময় পেয়েছেন। এই সময়ে তাকে দুটো মনের কথা বলতে ক্ষতি কী! তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে সঙ্গীকে তিন শব্দের সেই বিশেষ লাইনটি আরও একবার বলে ফেলুন…‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। বিশ্বাস করুন এই বাক্যের অনেক অনেক জোর!

ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরুন

যৌনতার বাইরেও সম্পর্কে ভালোবাসার ছোঁয়ার গুরুত্ব রয়েছে। সঙ্গীর স্নেহের পরশে কখনও থাকে বিশ্বাস আবার কখনও ভরে থাকে ভরসা। তাই প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরতে কিংবা ভালোবেসে তার হাতটি ধরতে ভুলবেন না।

এই ৫ নিয়ম খুবই সামান্য, হয়তো আমাদের জীবন থেকে খুব বেশি সময়ও নেয় না। তাই এগুলো মেনে চলুন। দেখবেন পরিস্থিতি বদলে যাবে।

জেএইচ

Advertisement
Advertisement

পরামর্শ

নতুন সংসার ও পরিবারের সাথে মানিয়ে নেবেন যেভাবে

Published

on

নিজের পছন্দের মানুষটিকে বিয়ে করতে পারা একটা স্বপ্নের মত। কিন্তু অনেকেই ভয়ে ভয়ে থাকেন শ্বশুর বাড়ি নিয়ে। কেমন হবে, কি করে মানিয়ে নেবেন। অনেকে এই ভয়ে আবার বিয়ের পরে শ্বশুর-শাশুড়ি ছেড়ে স্বামী নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে চান। দেখুন যে মানুষটিকে ভালোবাসেন তার পরিবারকে ইগনোর করা কোন স্থায়ী সমাধান নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সুন্দর এবং মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন সংসার ও পরিবারে মানিয়ে নেয়ার জন্য আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। ছোটখাটো কিছু জিনিস লক্ষ্য করলেই খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন নতুন সংসারে। তাই আজকে আমরা আপনাদের জানাবো নতুন সংসার এবং নতুন পরিবারের সাথে মানিয়ে নেয়ার কিছু কার্যকরী পদ্ধতি।

নতুন সংসার ও পরিবারের সাথে মানিয়ে নিতে হলে আপনাকে কিছু স্টেপস ফলো করতে হবে। সেগুলো হল-

১. নতুন পরিবারকে নিজের করে নিন

আপনাকে আগে এটা বুঝতে হবে যে এটা আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, আপনার জীবন সঙ্গীর পরিবার। আর তার পরিবার মানেই সেটি আপনার পরিবার, আপনার সংসার একে সাজিয়ে নিন আপনার মতো করে!

যখন এই কনসেপ্ট-টা কারও মাথায় ঢুকে যায় যে এটা আমার পরিবার নয়, অন্য পরিবার, এখানে আমি হুট করেই এসেছি, আমার পরিবারতো আমি ফেলে এসেছি, তখনি শ্বশুরবাড়ির সকলকে প্রতিপক্ষ বলে মনে হতে থাকে। নতুন সংসার ও পরিবারকে আপন করে নিতে হবে।

Advertisement

মনে রাখা দরকার, শ্বশুরবাড়ি কখনই আপনার প্রতিপক্ষ নয়। তাদেরকে নিজের পরিবারের একটা নতুন সংযোজন বলে ভাবুন, দেখবেন যে তা তখন এত অপরিচিত মনে হবে না। আপনার স্বামী এই পরিবারেই বড় হয়েছেন এবং পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে এই পরিবারকে তিনি বেশি ভালবাসেন। আর তার ভালবাসার মানুষরা তো আপনারও ভালবাসার মানুষ।

২. ইগো

ইগো পরিহার করুন। সম্পর্কে তিক্ততা আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে আমাদের ইগো। সবসময় বিনীত থাকুন, ইগোকে দূরে সরিয়ে রাখুন। যেকোনো খালি স্পেস ভালোবাসা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব, সময় লাগতে পারে, কিন্তু অসম্ভব নয়। নতুন সংসার সুন্দর করে গরে তুলতে আপনার ইগোকে পরিহার করতে হবে।

৩. তুলনা করবেন না

তুলনা করা যাবে না। ভুলেও কখনো শ্বশুরবাড়ি আর বাবার বাড়ির তুলনা করতে যাবেন না। দুটো পরিবার দুটো ভিন্ন পরিবেশ, এর মধ্যে কখনো তুলনা হয় না। তুলনা করতে গেলে হয়ত এমনও হতে পারে, যে জিনিস আপনি বাবার বাড়িতে পান নি সেটা হয়তো শ্বশুরবাড়িতে এসে পাচ্ছেন। তখন কি বলবেন, যে আগে বাবার বাড়ি ভালো ছিল না? নিশ্চয়ই না? প্রতিটি পরিবারের নিজস্ব কিছু নিয়ম কানুন আছে, ধারা আছে। এগুলোকে সম্মান করুন। এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়তো একটু সময় লাগবে, কিন্তু “পারবেন না” বা “করব না” এমন মনোভাব থাকলে কিন্তু অশান্তি বাড়বে।

Advertisement

৪. পরিবারটিকে জানার চেষ্টা করুন

নতুন পরিবারকে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনার স্বামী হতে পারেন, আপনার সবচেয়ে বড় সহযোগী। তার কাছ থেকে পরিবারের সকলের সম্পর্কে জানুন। আত্মীয়-স্বজনদের চিনুন। তাদের সাথে নিজে থেকে গিয়ে আলাপ করুন। অনেক সময় বাড়ির নতুন বউকে নিয়ে একটু আধটু মজা করা হয়, সেটাকে প্রথমেই নেগেটিভ-ভাবে নেবেন না। একটা বিয়ের পরে বাড়িতে একটা উৎসবের পরিবেশ থাকে, তখন এ ধরনের হাসি ঠাট্টা চলতেই থাকে। কোন বিষয়ে অস্বস্তিবোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না।

৫. বাচ্চাদের প্রাধান্য দিন

বাড়ির বাচ্চাদের সাথে মিশুন সবার আগে। বড়দের চাইতে বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্ব করা অনেক বেশি সহজ। বাড়িতে বাচ্চা থাকলে তাদের গল্প বলুন, তাদের পছন্দের খাবার তৈরি করে দিন, বা ছবি আঁকায় সাহায্য করুন। অথবা তাদের পড়াশনার ব্যাপারে সাহায্য করুন। এতে করে বাচ্চাদের সাথে আপনার একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হবে, পাশাপাশি বাড়ির বড়রাও আপনার ব্যাপারে ভালো একটা মনোভাব পোষণ করবেন।

৬ বড়দের সম্মান করুন

Advertisement

বাড়ির বড়দের সম্মান করুন। কথা বলার সময়, খাওয়ার সময় বা যদি আপনি চুপচাপ বসে থাকেন তখনও। বাড়ির বড়দের সামনে মোবাইল ফোন চাপাচাপি করা একেবারে নিষেধ। এটা খুবই বেয়াদবি। খাবার টেবিলে বসলে অন্যদের সাথে পারিবারিক আলোচনা শুনুন, তবে শুরুতেই নিজের মতামত দিতে যাবেন না। পুরো বিষয়টা আগে বুঝুন, তারপরেই মতামত দেবেন। অবসরে শাশুড়ি বা শ্বশুরের সাথে তাদের পুরনো দিনের গল্প শুনুন, যদি মনে করেন সেটাতে তারা আনন্দ পাচ্ছেন, তাহলে সে ব্যাপারে আপনিও উৎসাহ দেখান। শ্বাশুড়িকে মায়ের স্থানে বসান। বউ-শ্বাশুড়ি সম্পর্ক করে তুলুন মধুর…

৭ পরিবারের কাজে সাহায্য করা

নতুন বাড়িতে এসেই কেউ আপনাকে পুরো বাড়ির রান্নার দায়িত্ব দেবে না। তাই আপনারই উচিত হবে ছোট ছোট বিষয়ে তাদের সাহায্য করা। রান্নার ব্যাপারেই হোক বা ঘর গোছানোর ক্ষেত্রেই হোক, নিজে থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।তবে একটু সতর্কতা হিসেবে যেকোনো কাজের আগে সেটা শাশুড়ি বা ননদকে জিজ্ঞেস করে নিন, যে কাজটা তারা কিভাবে করেন? এটাতে ছোট হওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি বাড়িতেই সব কাজের কিছু আলাদা নিয়ম কানুন থাকে। সেগুলো জেনে নিন, দেখবেন আর কোন সমস্যাই হচ্ছে না। নিজের লাইফপার্টনারের সাথে ছোটখাটো কাজগুলো শেয়ার করলেও বন্ডিং ভালো হয়। এই বিষয়টাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

৮. নিয়মিত যোগাযোগ রাখা

নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। যদি আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি বা দেবর-ননদ আপনাদের সাথে না থাকেন, তাহলে প্রতিদিন একবার আপনার শ্বশুর-শাশুড়িকে ফোন করুন, তাদের দিন কেমন কেটেছে জিজ্ঞেস করুন, আপনি সারাদিন কী কী করলেন সেগুলো তাদের বলুন। এতে করে সম্পর্ক অল্পদিনেই সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া অন্য সদস্য যেমন দেবর-ননদ তাদের সাথে সপ্তাহে অন্তত দু-তিন বার যোগাযোগ করুন। এতে সম্পর্ক ভালো থাকবে। মজবুত হবে। ননদ-ভাবী সম্পর্ক যেন হয় বোনেদের মত…

Advertisement

৯. সঙ্গীর প্রশংসা

সম্পর্কের শুরু সবে…আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করুন। দেখুন ভালো দিক, বিরক্তিকর দিক সবারই আছে, আপনার ও আমারও আছে। এখন আপনার সঙ্গীর পরিবারের সদস্যরা কিন্তু আগে থেকেই এসব জানেন। তাদের কাছে নতুন করে এগুলো নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করা বা কমপ্লেইন করা ঠিক হবে না। তাদের সামনে বরং আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করুন। এতে তারাও খুশি হবেন। আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক হোক মধুর চেয়েও মিষ্টি।

১০. সরাসরি কথা বলা

সরাসরি কথা বলুন। কোন সদস্যের সাথে কোন কিছু নিয়ে সমস্যা হলে সেটা আগে ভালোভাবে বুঝুন, আদৌ সেটা সিরিয়াস কিনা, যদি মনে করেন সিরিয়াস তাহলে সরাসরি কথা বলুন, তবে সেটা যেন হয় বিনয়ের সাথে, শাশুড়ির সাথে সমস্যা হল, সঙ্গে সঙ্গে মাকে ফোন করে ডেকে এনে তাকে দিয়ে বলানোর চেয়ে আগে নিজে চেষ্টা করুন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের চেষ্টাতেই সবচেয়ে ভালো সমাধান আসে। এগুল-ই সুখী দাম্পত্য জীবনের সহজ রহস্য।

সব শেষে বলবো, বিয়ের পরে নতুন মানুষ, নতুন সংসার একটু আধটু অসামঞ্জস্য থাকবেই। সেগুলো নেগেটিভ-ভাবে না নিয়ে, তাদের বোঝার চেষ্টা করুন।

Advertisement

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

পরামর্শ

শুধু পেট পরিষ্কারই নয়, ত্রিফলায় আরও যে যে সমস্যা নিরাময় হয়

Published

on

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সপ্তাহে দু’দিন নিয়ম করে ত্রিফলা ভেজানো পানি খাচ্ছেন। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে নানা রোগব্যাধি ঠেকিয়ে রাখতে ত্রিফলার জুড়ি মেলা ভার। আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা— এই তিন ফল শুকিয়ে, গুঁড়ো করে, একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় ত্রিফলার মিশ্রণ। পেট ভালো রাখতে জলে ত্রিফলা ভিজিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো।

ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকি পেটের সমস্যা দূর করে। শরীরে জমে থাকা টক্সিক পদার্থ বের করে দিতেও আমলকি বেশ উপকারী। তা ছাড়া রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতেও আমলকির তুলনা নেই। অন্য দিকে, হরিতকিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ত্রিফলা খাওয়া যেতে পারে। বহেরা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, পেশির জোর বাড়াতে আর হাড় মজবুত করতেও বহেরা বেশ উপকারী। এ ছাড়া আর কী কী উপকার করে ত্রিফলা?

১. ত্বকের নানা সমস্যার দাওয়াই হতে পারে ত্রিফলা। নিয়মিত এই মিশ্রণটি খেলে ব্রণ, ফুসকুরির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি, ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতেও সাহায্য করে এটি।

২.  বিপাকহার কমে গেলে ওজন বেড়ে যায়। বিপাকহার বৃদ্ধি করতে ত্রিফলার মিশ্রণ দারুণ কাজ করে। এর পাশাপাশি হজমের সমস্যা থাকলেও এই মিশ্রণ কাজে আসতে পারে আপনার। সব মিলিয়ে মেদ ঝরিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই মিশ্রণ।

৩. সারাক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটারের সামনে থেকে চোখের বারোটা বাজছে। ত্রিফলা কিন্তু চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। ত্রিফলা চোখের সমস্যা, যেমন ছানি, গ্লকোমা, কর্নিয়াল ডিস্ট্রোফি, কনজাংটিভাইটিস এবং প্রদাহ নিরাময় এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

Advertisement

কী ভাবে খাবেন ত্রিফলা?

বেশ কিছু নামী সংস্থার ত্রিফলা বড়ি পাওয়া যায়। সেই ট্যাবলেট খেতে পারেন। এ ছাড়াও ত্রিফলা চূর্ণ পাওয়া যায়। এক চামচ ত্রিফলার গুঁড়ো এক কাপ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে সেই পানি খেতে হবে। তাতে ১ চামচ মধু মিশিয়েও খেতে পারেন।

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

পরামর্শ

বাবা-মায়ের ঝগড়া বিবাদ যেভাবে সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে

Published

on

বা-মায়ের কাছে সন্তান এতোটাই মূল্যবান যার তুলনা অন্য কিছুর সাথে হয় না। নিজের সন্তান যেন সুরক্ষিত থাকে, সুস্থ থাকে, ঠিকঠাকভাবে বেড়ে ওঠে, এটাই সবার চাওয়া। মা বাবার পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার সম্পর্ক থেকেই শিশু প্রথম বুঝতে শেখে যে পরিবার আসলে কী। বাবা-মায়ের ভালোবাসা যেমন সন্তানকে সুস্থ, সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে; ঠিক তেমনি দাম্পত্য কলহ বা মনোমালিন্য সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর দিকে ঠেলে দেয়।

বাবা-মায়ের ঝগড়া বিবাদ কীভাবে সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে?

পরিবারে যদি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেই পরিবেশে সন্তানের সুস্থভাবে বড় হওয়া কি পসিবল? একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৭২% বিবাহিত নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৩ সালে সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল তাদের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, ৬ মাস বয়সী বাচ্চার সামনেও যখন বাবা-মায়ের ঝগড়া বিবাদ হয়, তখন সেটা মস্তিষ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এই ধরনের স্ট্রেসফুল এনভায়রনমেন্টে থাকার ফলে মানসিক বিকাশও দেরিতে হয়।

দাম্পত্য কলহ ও সন্তানের উপর এর প্রভাব

এছাড়া আরও একটি প্রতিবেদনে এসেছে কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে টিনেজ পর্যন্ত যেসব ছেলে মেয়ে পরিবারের দ্বন্দ্ব সংঘাতের মাঝে বড় হয়, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের মেন্টাল ডিসঅর্ডার দেখা দেয়।

Advertisement

চলুন দেখে নেই এক্ষেত্রে সন্তানের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে-

আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি

ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের কলহ দেখে বড় হলে সে কিন্তু আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে না। যেহেতু সুস্থ পারিবারিক পরিবেশটা পাচ্ছে না এবং এই অবস্থায় তার কী করা উচিত, সেটাও বুঝে উঠতে পারে না। আস্তে আস্তে সে তার আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগও সে পায় না।

কাজে অমনোযোগীতা

আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলার কারণে কোনো কাজেই সে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। এটাও এক ধরনের মেন্টাল ডিজঅর্ডার।

Advertisement

জেদ ও রাগ বেড়ে যাওয়া

একেক জন শিশুর মাঝে দেখা যায় একেক ধরনের পরিবর্তন। কেউ প্রচন্ড রকমের ভীতু, কেউ জেদি, কেউ বা রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না, এই ধরনের ইস্যু দেখা যায়। সব সময় উদাসীন থাকা, কারো সাথে মিশতে না চাওয়া বা খেলতে যেয়ে অন্যদের সাথে রুডলি কথা বলা – এসবই পারিবারিক অশান্তির ফলাফল। দাম্পত্য কলহ সন্তানের মানসিক বিকাশের প্রতিটা ধাপেই বাধা সৃষ্টি করে।

একাডেমিক কার্যক্রমে অবনতি

যে বাচ্চাটা সবসময়ই মন খারাপ করে থাকে, ঘরে ঝগড়া দেখে বড় হয়; তার জন্য লেখাপড়ায় মনোযোগ ধরে রাখা বেশ কঠিন। আর সে একটা সময় এসে হাল ছেড়ে দেয়। এজন্যই দেখা যায়, অনেক ছেলে মেয়ে টিনেজে এসে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে, ইয়ার ড্রপ দেয়। পড়াশুনাতে আর ফোকাসড থাকতে পারে না।

শারীরিক অসুস্থতা

Advertisement

একটানা স্ট্রেসে থাকতে থাকতে কিন্তু শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়। ইনসমনিয়া, জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, মাথা ব্যথা এমনকি অস্বাভাবিকভাবে কথা বলা, কথা জড়িয়ে যাওয়া সহ নানা রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর মানসিক অবসাদ তো তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে যায়।

প্রাপ্তবয়সে এসেও মেন্টাল ট্রমা

যদি শৈশব কাটে আতঙ্কে, নিরাপত্তাহীনতায়; তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে ভাবুন তো? দাম্পত্য কলহ দেখে যারা বড় হয়, তারা জীবনে সঠিক লাইফ পার্টনার চুজ করতে কনফিউজড থাকে। এই মানসিক ট্রমার কারণে তারা বিবাহিত জীবনেও ইনসিকিউরিটিতে ভোগে। অনেকে অবশ্য ট্রাই করে বা স্ট্রাগল করে এই ট্রমা কাটিয়ে ওঠার।

বাবা-মায়ের করণীয় কী তাহলে?

১. একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, আপনার রাগ, ইগো সবকিছু কি আপনার সন্তানের চেয়ে বড়? যেকোনো কথা কাটাকাটিতে জড়ানোর আগে একবার ভেবে নিন এতে কি আপনার কোনো উপকার আছে ক্ষতি ছাড়া? বা আপনি তর্কে জিতে খুব খুশি হচ্ছেন, এদিকে আপনার সন্তান ভয় পাচ্ছে, অসহায় বোধ করছে; তাহলে আপনার এই সাময়িক জিতে যাওয়াতে কার লাভ হলো?

Advertisement

২. সবসময় চেষ্টা করবেন উত্তেজিত না হয়ে আস্তে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে। বাচ্চার সামনে কোনোভাবেই তর্কে জড়াবেন না। বরং ঐ জায়গা থেকে সরে যাওয়া, চিন্তা ভাবনা করে পরে কথা বলাই বেস্ট ডিসিশন। মনে রাখবেন, বাচ্চাকে যা শিখাবেন, সে তাই শিখবে। আপনি ভালো কথা, ভালো কাজ করলে বাচ্চাও তাই শিখবে। আপনি রুডলি কথাবার্তা বলতে থাকলে সে সেটাই মনে রাখবে।

৩. সন্তানের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবকিছুর দায়িত্ব একজনের উপর না দিয়ে দায়িত্ব বন্টন করুন। সন্তানের সাথে সময় কাটানো খুব জরুরি। তার মনের কথা, সে কী ভাবছে, কী জানাতে চাচ্ছে, সব কিছু খেলা বা গল্পের ছলে জেনে নিন। বাইরে ঘুরতে যাওয়া বা একসাথে সময় কাটানো শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সাহায্য করে।

৪. পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে বাচ্চাকে কখনোই যেকোনো একজনের পক্ষ নিতে বাধ্য করবেন না। বা তার কাছে একজন আরেকজনের খারাপ দিক তুলে ধরবেন না। সন্তানকে পজেটিভ থাকতে সাহায্য করুন। বাবা-মা সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করুন।

এর সমাধান কী তাহলে?

বাবা-মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সন্তানকে নিরাপত্তাবোধ দেয়। নিজেদের কিছু ভুলের জন্য আপনার সন্তানের সুন্দর শৈশব যেন ট্রমা না হয়ে যায়! স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সম্মান করুন এবং সন্তানের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। আজ এই পর্যন্ত-ই, ভালো থাকুন এবং অন্যকেও ভালো রাখুন।

Advertisement

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত