জাতীয়

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ: মাইনাস ফর্মুলার ষড়যন্ত্রের শিকার বঙ্গবন্ধুকন্যা

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ: মাইনাস ফর্মুলার ষড়যন্ত্রের শিকার বঙ্গবন্ধুকন্যা
আজ ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস। ১৭ বছর আগের এদিনে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদের  নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন মিথ্যা-বানোয়াট, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে  বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নীল নক্সায় ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে আটক করে এবং সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ ১১ মাস আটক রেখেছিলেন। পরবর্তীতে দেশের মুক্তিকামী জনগণের আন্দোলন আর আন্তর্জাতিক চাপে ২০০৮ সালের ১১জুন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরায় ফিরে আসে। কী ঘটেছিল এদিন? ২০০৭ সালের এদিন ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দুই হাজারেরও বেশি সদস্য শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন ঘেরাও করে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা আগেই শেখ হাসিনার জামিন আবেদন বিধিবহির্ভূতভাবে নামঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। আদালতের গেটে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩৬ মিনিটের বক্তৃতায় তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন শেখ হাসিনা। গ্রেপ্তারের আগে দেশবাসীর উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেই দিকনির্দেশনায় আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশবাসী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। কেন গ্রেপ্তার করা হয়? ওয়ান ইলেভেনের  সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাব, রাজনীতিতে মাইনাস ফর্মুলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে  শেখ হাসিনাকেই রোধ করার ষড়যন্ত্র ছিল। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলের শুরুতেই আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা গ্রেফতার,হয়রানি,নির্যাতনের সম্মূখীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ওই সময় সদ্য ক্ষমতা থেকে বিদায়ী বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রধান খালেদা জিয়াকে প্রথমে আটক না করার পক্ষ অবলম্বন গ্রহণ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিলম্বে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।তবে মাইনাস ফর্মুলার ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সফলতার মুখ দেখেনি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। জনগণের মুক্তি আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে হয়েছে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার-নির্যাতন। অসংখ্যবার মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। জনগণের ভালোবাসায় সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অকুতোভয় নির্ভীক সেনানীর মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সকল বাধা-বিপত্তি জয় করে আজ শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্ব দরবারেও স্বমহিমায় উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এমআর//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন শেখ | হাসিনার | কারাবন্দি | দিবস | আজ | মাইনাস | ফর্মুলার | ষড়যন্ত্রের | শিকার | বঙ্গবন্ধুকন্যা