লাইফস্টাইল

সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বাড়ায় কাজের গতি

সকাল ৯টা। অফিসের কফি কর্ণারে কয়েকজন সহকর্মী হাসিমুখে চা খাচ্ছেন। এক জন নতুন প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলছেন, অন্যরা গুরুত্বসহকারে শুনছে আর মাঝে মাঝে ছোট্ট পরামর্শ দিচ্ছেন। এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোই কাজের এক বিশেষ সুর তোলে। কারও চোখে হয়তো মনে হচ্ছে, “কেন এতো সাধারণ?”—কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসের এমন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশই কর্মজীবনকে সুন্দর ও প্রফুল্ল করে তোলে।

কর্মক্ষেত্র জীবন আমাদের দিনে দিনের বড় অংশকে গ্রাস করে। তাই সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা মানসিক স্বস্তি আনার পাশাপাশি কাজের গতি ও দক্ষতাও বাড়ায়। যেসব অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা হাসি, বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, একে অপরের খোঁজখবর—সেখানেই কাজের পরিবেশ থাকে প্রাণবন্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সহকর্মীর কোনো কাজে সমস্যা দেখা দেয়, সহায়তার হাত বাড়ানো এবং পাশে দাঁড়ানো পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে। এমন আস্থা শুধু দলগত কাজের মান বাড়ায় না, ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতাকেও উন্নত করে। অন্যদিকে বন্ধুত্বহীন বা কেবল আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের অফিস জীবন ধীরে ধীরে একঘেয়েমি সৃষ্টি করে, যার প্রভাব পড়ে কর্মফলেও।

কর্মক্ষেত্রে মানুষকে শুধুই বেতন বা পদবী দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, প্রত্যেককে মানুষ হিসেবে সম্মান দেওয়া এবং কাজের মান অনুযায়ী মূল্যায়ন করা পেশাদারিত্বের প্রধান পরিচায়ক। আবার সহকর্মীদের নিয়ে পরচর্চা এড়িয়ে চলাটাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অফিসে নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ছোট ছোট উদ্যোগও সম্পর্ককে মজবুত করে। একসাথে লাঞ্চ করা, জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বিনিময়—এসবই বন্ধুত্ব ও আস্থাকে আরও দৃঢ় করে। তবে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন বা স্পর্শকাতর বিষয়ে অযথা আগ্রহ দেখানো উচিত নয়।

নারী-পুরুষ সহকর্মীদের মধ্যে কখনও কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্কও গড়ে উঠতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন সম্পর্ক অফিস জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সম্পর্ক ভাঙলে পেশাদার আচরণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের দায়িত্ব ও কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করা। ভালো কাজের মাধ্যমে সহকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। অবহেলা শুধু নিজেকেই নয়, প্রতিষ্ঠানকেও ক্ষতির মুখে ফেলে।

শেষ পর্যন্ত, সুস্থ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কর্মজীবনকে শুধু সহজ বা আনন্দময় করে না, বরং কাজের মান ও উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি করে। অফিসের ছোট ছোট হাসি, সহায়তা, এবং আন্তরিকতা মিলিয়ে তৈরি করে এক ইতিবাচক পরিবেশ—যেটি কর্মজীবনের প্রতিটি দিনকে আনন্দের সঙ্গে সাজিয়ে তোলে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন