যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, শিশুসহ নিহত ৮
চলমান যুধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতে ফের হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে এক শিশুসহ অন্তত আটজন নিরস্ত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এসব তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরের একটি বাড়িতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। হামলায় আহতদের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যে এলাকায় হামলাটি হয়েছে, সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। একই শহরে আরেকটি বাড়ির আঙিনায় গুলিবর্ষণে আরও দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
এদিকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের মাওয়াসি এলাকায় আল-আলম মোড়ের কাছে এক ফিলিস্তিনি পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে জরুরি সেবা দল। তার শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।
এ হামলার মধ্যেই উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরাইলি সেনা সরে যাওয়ার পর এক ফিলিস্তিনি কিশোরী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গাজাজুড়ে কামান ও বিমান হামলার তৎপরতাও অব্যাহত ছিল।
বর্তমানে ইসরাইল গাজার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বাফার জোনসহ উত্তর গাজার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, ফলে উপত্যকার প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড তাদের দখলে রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইল নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও হামলায় অন্তত ৪৫১ জন নিহত এবং ১,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ ও পুনর্গঠনের আহ্বান জানালেও ইসরাইল এখনো সীমান্ত ক্রসিংগুলো পুরোপুরি খুলে দেয়নি।