‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত মেনে নেয়া হবে না’
একদিকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেখানো আর অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত- এই দুইয়ের সহাবস্থান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যাদের হাতে নারীরা আজই নিরাপদ নন, তারা ভবিষ্যতে কী ভূমিকা নেবেন, তা বুঝতে খুব বেশি চিন্তার প্রয়োজন নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের আদর্শিক ও শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বাধা দেয়ার কোনো অধিকার কারো নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হলে কিংবা নারীদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি এমন পর্যায়ে নেমে যায় যেখানে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, তাহলে সেই রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।
জামায়াত আমির বলেন,জামায়াত দেশের মানুষকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার সবই পূরণ করা হবে। ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের নির্বাচিত করার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ'কে জেতানোর আহ্বান জানানও শফিকুর রহমান। বলেন, হ্যাঁ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে, আর হ্যাঁ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনতার স্বার্থ রক্ষায় দাঁড়িপাল্লার মাপে কোনও হেরফের হবে না। এই দেশে জনগণের রাজনীতি হবে, পরিবার বা দলের নয়।
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্যতম মজলুম দল জামায়াত। ১৭ বছর নির্যাতিত অবস্থাতেও মানুষের পাশে ছিল দলটি।
বিএনপি দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে চাইলে সহায়তা করারও কথা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ যদি পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে, তবে আমরাও ছেড়ে দেবো না। আমাদেরকে জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই৷
গোটা বাংলাদেশকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট আঁকড়ে ধরেছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে সব সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করা হবে৷ বেকার ভাতা নয়, বেকারদের দক্ষ করে কর্মমুখী করতে চাই। নারীদের জন্য পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণ শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে। সব ধর্মের জন্য নিরাপত্তার দুয়ার খুলে দেয়া হবে।
এসি//