আন্তর্জাতিক

গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল-ইসলামকে গুলিকে করে হত্যা

লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে (৫৩) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বিষয়টি জানায়।

সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ উসমান পৃথকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম ফাওয়াসেল মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ত্রিপলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে সাইফ আল-ইসলামের বাসভবনে সশস্ত্র একটি দল হামলা চালায়। সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গাদ্দাফির রাজনৈতিক দল এক বিবৃতিতে জানায়, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ছিল “কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক” হামলা। 

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারীরা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়, যাতে ঘটনার প্রমাণ গোপন করা যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হাই স্টেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় কোনো পদে ছিলেন না। তবে ২০০০ সাল  থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।

ওই বছর ত্রিপলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে জিনতানে সাইফ আল-ইসলাম আটক হন এবং বন্দি থাকেন। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকে সাইফ জিনতানেই বসবাস করছিলেন।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন