আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: জাতিসংঘ

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং চার হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনকে জানুয়ারির বিক্ষোভের ঘটনায়, ১০ জনকে বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার অভিযোগে এবং ২ জনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সংস্থাটির প্রধান ভলকার তুর্ক এসব মৃত্যুদণ্ডে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি ইরানের জনগণের অধিকারও কঠোর ও নির্মম উপায়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

তুর্ক আরও বলেন, সংঘাতের এই সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসী হামলা চালায় ইসরাইল। পরে এই অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্রও। যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

এর জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান, যা পুরো অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানে দুই পক্ষের আলোচনা চলছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ইরানি রিয়ালের পতনের প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করে তেহরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে হতাহতের বড় সংখ্যা উল্লেখ করা হলেও ইরান সরকার দাবি করে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলনে উসকানি দিয়েছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন