লাইফস্টাইল

লোডশেডিং: বিরক্তির মাঝেও ছোট ছোট আনন্দের গল্প

গ্রীষ্মের দুপুর বা রাত—হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে যেন সময় থমকে যায়। ঘরের বাতাস থেমে যায়, পাখার ঘূর্ণি থেমে দাঁড়ায়, আর গরমে অস্থির হয়ে ওঠে চারপাশ। এমন মুহূর্তে লোডশেডিংকে বেশিরভাগ মানুষই বিরক্তি আর ভোগান্তির নামেই চেনে। কিন্তু এই অন্ধকারের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে কিছু অদ্ভুত, ছোট ছোট আলোর গল্পও।

বিদ্যুৎ না থাকলে প্রথমেই থেমে যায় আমাদের ডিজিটাল দুনিয়া। মোবাইল, টিভি কিংবা নানা গ্যাজেট—সবকিছু থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন অনেকে। এতে যেমন বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমে, তেমনি কিছু সময়ের জন্য হলেও পর্দার আসক্তি থেকে মুক্তি মেলে।

এই হঠাৎ পাওয়া বিরতিটাই অনেক সময় বদলে দেয় ঘরের পরিবেশ। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসার সুযোগ পান। কেউ গল্প করেন, কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন, আবার কখনো হাসি-ঠাট্টায় ভরে ওঠে ঘর। সম্পর্কের এই উষ্ণতাটা অনেকদিন পর নতুন করে অনুভূত হয়।

রাতের বেলায় লোডশেডিং হলে মোবাইল স্ক্রিন থেকে দূরে সরে ঘুমের দিকে মনোযোগ বাড়ে। অনিয়মিত রাতজাগা অভ্যাস কিছুটা হলেও কমে আসে। গরমে শরীর ঘেমে ওঠা যতই অস্বস্তিকর হোক, তা সাময়িকভাবে হলেও শারীরিক ক্যালরি ক্ষয়ের একটি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

এদিকে লিফট বন্ধ থাকলে বাধ্য হয়েই অনেকে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। দৈনন্দিন এই ছোট ছোট হাঁটাচলাই অনেকের জন্য অজান্তেই হালকা ব্যায়ামের মতো কাজ করে।

লোডশেডিংয়ের সময় ঘরের ভেতর বিনোদনের ধরনও বদলে যায়। লুডু, ক্যারাম কিংবা তাসের আড্ডায় জমে ওঠে পরিবার। আলোহীন সেই মুহূর্তে হাসি আর গল্পই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিনোদন।

এছাড়া পোষা প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও বেড়ে যায়। বিড়াল, কুকুর কিংবা পাখির সঙ্গে এই হঠাৎ পাওয়া সময় সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

সব মিলিয়ে লোডশেডিং যতই অস্বস্তির নাম হোক না কেন, তার ভেতরেই কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে ঘনিষ্ঠতা, বিশ্রাম আর জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন