মেট্রোরেলে ইঁদুরের ছোটাছুটি!
প্রতিদিনের মতোই যাত্রীভর্তি মেট্রোরেল ছুটে চলছিল গন্তব্যের পথে। চারপাশে ছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা আর নীরব যাত্রার পরিবেশ। কিন্তু মুহূর্তেই সেই শান্ত দৃশ্য বদলে যায় ছোট্ট এক অনাহূত অতিথির উপস্থিতিতে।
হঠাৎ করেই একটি ইঁদুর দ্রুত দৌড়ে বেড়াতে শুরু করে মেট্রোরেলের বগির ভেতর। আর এতেই যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় চাঞ্চল্য, চিৎকার আর ছোটাছুটি। কেউ সিটের ওপর উঠে পড়েন, কেউ আবার ভয়ে এক কোণে সরে যান।
শনিবার (২৩ মে) সিঙ্গাপুরের ইস্ট-ওয়েস্ট লাইনের একটি মেট্রোরেলে এই ঘটনা ঘটে। ছোট্ট একটি ইঁদুর মুহূর্তেই পুরো বগির পরিবেশ পাল্টে দেয় এবং যাত্রীদের মধ্যে তৈরি করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের বগিতে ইঁদুরটি প্রাণপণে এদিক-ওদিক ছুটছে। ছোট্ট প্রাণী হলেও মোটামুটি ইঁদুরের কামড় বা স্পর্শ এড়াতে সবাই আতঙ্কে থাকে। বগিতেও তাই ঘটল, ইঁদুরের উপস্থিতি দেখে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকেই আতঙ্কে ঝটপট নিজেদের পা ওপরে তুলে ধরেন। এরই মধ্যে দুজন সাহসী যাত্রী ইঁদুরটিকে তাড়া করে এক কোণায় আটকে ফেলার চেষ্টা চালান।
মেট্রোরেলের ভেতরে ইঁদুরের এই কাণ্ড দেখে নেটিজেনদের মধ্যে নানা আলোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে নড়েচড়ে বসেছে সিঙ্গাপুরের প্রধান ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএমআরটি।
সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএ’র কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এসএমআরটি ট্রেনসের প্রেসিডেন্ট লাম শিউ কাই। তিনি জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। যাত্রীদের স্বস্তির কথা ভেবে এখন থেকে প্রতিটি স্টেশন ও ডিপোতে বালাইনাশক বা পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
মেট্রোরেলের মতো সুরক্ষিত জায়গায় কীভাবে ইঁদুর এলো, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন লাম শিউ কাই। তার মতে, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, রেললাইন, ট্রেনের নিচের খালি অংশ কিংবা দুই বগির সংযোগস্থলের ফাঁকা জায়গা দিয়ে মাঝেমধ্যে ইঁদুর ভেতরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিদিন রাতে যাত্রী পরিবহন শেষে প্রতিটি ট্রেন নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যাত্রীদের ওপরও কিছুটা দায় চাপিয়েছে ট্রেন কর্তৃপক্ষ। স্টেশন ও ট্রেনের ভেতর কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার জন্য কড়া নির্দেশনা জারি করেছে এসএমআরটি। তাদের বক্তব্য, যাত্রীদের ফেলে দেয়া খাবারের লোভেই মূলত ইঁদুর বা এ জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী ট্রেনে আসে।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এ নিয়ে নেটিজেনদের হাস্যরস থামছে না। একজন লিখেছেন, ‘দেশের অর্থনীতির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, শেষমেশ ইঁদুরটাকেও চাকরি করতে ট্রেনে চড়ে যেতে হচ্ছে।’
মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনের ‘র্যাট রেস’ বা ইঁদুর দৌড়ের কথা টেনে আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘বেচারা ইঁদুরটি বোধহয় আমাদের মতোই কোনো ইঁদুর দৌড়ে আটকা পড়ে গেছে।’
টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলসের প্রসঙ্গ টেনে আরেকজন বলেন, ‘মাস্টার স্প্লিন্টারের জায়গা তো মেট্রা রেলের সাবওয়েতেই।’
এসি//