১৯ দিনের ব্যবধানে খোলা হলো শাহজালালের মাজারের দানবাক্স
মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নসংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই সভায় দানবাক্সের অর্থ গণনার পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্তভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেন।
এরও আগে, গত ১২ জুন মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগ এবং একটি দানবাক্স সিলগালা করে রাখা হয়, যেখানে দর্শনার্থীদের দেওয়া অনুদান সংরক্ষণ করা হতো।
এসব পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে ২১ জুন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে, ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ দিতে কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে দানবাক্সের অর্থ গণনার কাজ শুরু হবে। কমিটির সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ, মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনা শেষে সংগৃহীত অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
এসি//