ইরানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের বাড়ছে উত্তেজনা
যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পরও থামেনি সংঘাত। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই সর্বশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় বন্দর আব্বাস ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নোবোনিয়াদ-১ এলাকাতেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
হরমুজ প্রণালির তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ শহর সিরিকে আবারও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুশেহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
খামির বন্দরের কাছে দুটি সেতুতে হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এছাড়া বন্দর আব্বাসের আল্লাহু আকবর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। শহরের উপকণ্ঠে রেল অবকাঠামোতে হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
ইরানশাহর বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামরিক সরবরাহ কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে টানা ষষ্ঠ রাতের সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে সেন্টকম আরও জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
এমএ//