মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের টানা ষষ্ঠ রাতের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, ওমানের ঘানিম এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকাশ নজরদারি রাডার এবং হরমুজ প্রণালির একটি সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক অভিযানের ১৩তম ধাপ চলমান রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।
এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলারও দাবি করেছে আইআরজিসি। তারা জানায়, ওই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রাগার এবং দুটি হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, ইরানের টেলিযোগাযোগ ও রেল অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, সিরিয়ার আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের ইরানশাহরে সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
এদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কয়েকটি আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে ইরানের হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এমএ//