কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া!
বর্ষাকালের টানা বৃষ্টির প্রভাবে পাবনার কাঁচাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এ পরিস্থিতিতে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পাবনার বড়বাজার, মাসুম বাজার, দাশুড়িয়া বাজার, বেড়া সিঅ্যান্ডবি চত্বর বাজার, সাঁথিয়া বাজার ও কাশীনাথপুর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুখিকচু ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আগাম জাতের শিম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও চালকুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁপে ও পোল্লার দাম তুলনামূলক কম থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আষাঢ় ও শ্রাবণের টানা বর্ষণে জেলার অধিকাংশ আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সবজির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে বেগুন, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির গাছ নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক হাজার টাকা নিয়েও চার থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
মাসুম বাজারের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতার সংখ্যাও কমেছে। অন্য জেলা থেকে পণ্য এনে বিক্রি করতে হলেও বিক্রি কম হওয়ায় অনেক কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জেলার সচেতন নাগরিকদের মতে, বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতার কারণে সবজির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এসি//