ক্যাম্পাস

জবিতে ছাত্রদল–জকসু–ছাত্রশক্তির মধ্যে মারামারি

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন ও শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে জকসু নেতাকর্মীরা ও আরও কয়েকজন কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে ঢোকার চেষ্টা করেনপ্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ও অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাবসুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবি জানানো হয়।

এসব বিষয়ে সেমিনারে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন।

এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন,  মিলনায়তনে সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে আসার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসকে মারধর করেছেন 

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাঁদেরকে বিনয়ের সঙ্গে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তাঁরা সরেননি। একপর্যায়ে এগিয়ে এলে মারামারি হয়। এতে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন

জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ওরা আমাদের ভাই-বোনদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। এই ছেঁড়া পোস্টারেই দাবি আদায় হবে, ইনশাআল্লাহ।

ওসি মতিউর রহমান দুপুর দেড়টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন