লাইফস্টাইল

মশা তাড়াবে রসুন!

বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে মশার উৎপাত। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের কোণে, জানালার পাশে কিংবা বারান্দায় শুরু হয় মশার আনাগোনা। আর মশার কামড়ের সঙ্গে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। ফলে মশা তাড়াতে অনেকেই কয়েল, স্প্রে কিংবা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক প্রতিরোধক ব্যবহার করেন।

তবে এসবের বাইরে প্রাকৃতিক উপাদান নিয়েও মানুষের আগ্রহ রয়েছে। রান্নাঘরে থাকা রসুন এমনই একটি উপাদান, যার গন্ধ ও কিছু সক্রিয় যৌগ মশাসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণাতেও রসুনের তেল ও নির্যাসের মশা প্রতিরোধী সম্ভাবনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ঘরোয়া রসুনের ব্যবহারকে নিশ্চিত বা দীর্ঘস্থায়ী মশা নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তাহলে ঘরে মশার উৎপাত কমাতে রসুন কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে? আর কোন বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি?

রসুন কেন আলোচনায়?

রসুনে থাকা বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগের কারণে এর গন্ধ বেশ তীব্র। মশার মতো পোকামাকড় গন্ধের মাধ্যমে পরিবেশের বিভিন্ন সংকেত শনাক্ত করে। গবেষণাগারে রসুনের তেল মশার মানুষের গন্ধের প্রতি আকর্ষণ কমাতে পারে বলে দেখা গেছে।

তবে শুধু রসুনের গন্ধ ছড়ালেই ঘরের সব মশা মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের কার্যকারিতা সাধারণত নির্ভর করে এর ঘনত্ব, ব্যবহারের পদ্ধতি এবং মশার প্রজাতির ওপর।

রসুনের পানি দিয়ে স্প্রে

ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য কয়েক কোয়া রসুন থেঁতলে পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নেওয়া যায়। পানি ঠান্ডা হলে ছেঁকে স্প্রে বোতলে রাখা যেতে পারে। ঘরের কোণ, জানালার আশপাশ বা বারান্দার মতো জায়গায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যায়।

তবে এটি কোনো পরীক্ষিত মশা প্রতিরোধক পণ্যের সমতুল্য নয়। তাই শুধু এই পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি।

রসুনের সঙ্গে তেল ব্যবহারে সতর্কতা

রসুনের রস সরাসরি ত্বকে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া যায় না। কাঁচা রসুন ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা প্রদাহ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, সংবেদনশীল ত্বকের মানুষ এবং অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

মশা প্রতিরোধে ত্বকে ব্যবহারের জন্য পরীক্ষিত ও অনুমোদিত উপাদানযুক্ত প্রতিরোধক ব্যবহার করাই বেশি নির্ভরযোগ্য। মশা প্রতিরোধে কার্যকর বিভিন্ন অনুমোদিত উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও।

রসুনের সঙ্গে লবঙ্গের গন্ধ

কয়েকটি থেঁতলানো রসুনের কোয়ার সঙ্গে লবঙ্গ রেখে ঘরের এক কোণে রাখা যায়। এতে ঘরে একটি তীব্র গন্ধ তৈরি হবে। কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক মশা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেন।

তবে এটিকেও নিশ্চিত মশা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বলা ঠিক হবে না। ঘরে মশা কমাতে জানালা-দরজায় জাল ব্যবহার এবং জমে থাকা পানি অপসারণের মতো কার্যকর ব্যবস্থা পাশাপাশি নেওয়া প্রয়োজন।

রসুনের বাষ্প কতটা কার্যকর?

রসুন পানিতে ফুটিয়ে তার বাষ্প ঘরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচলনও রয়েছে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে মশা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

বরং ফুটন্ত পানি নিয়ে ঘরে বাষ্প ছড়ানোর সময় শিশুদের কাছ থেকে পাত্রটি দূরে রাখা জরুরি। পোড়ার ঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের পদ্ধতিতে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত।

ঘরে মশা ঢোকা ঠেকাতে রসুন

রসুনের কোয়া কেটে জানালা বা দরজার পাশে রাখার প্রবণতাও রয়েছে। ধারণাটি হলো, তীব্র গন্ধ মশাকে ঘরে ঢুকতে নিরুৎসাহিত করবে। কিন্তু শুধু কয়েকটি রসুনের কোয়া রেখে ঘর মশামুক্ত রাখা সম্ভব—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

মশা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে জরুরি কী?

রসুনের মতো ঘরোয়া উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে, কিন্তু ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকলে শুধু এসব পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, দরজা-জানালায় জাল ব্যবহার, প্রয়োজন হলে মশারি টানানো এবং পরীক্ষিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও মশার কামড় এড়াতে অনুমোদিত প্রতিরোধক, শরীর ঢেকে রাখা পোশাক এবং ঘরের ভেতর-বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেয়।

রসুন তাই হতে পারে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে একটি সহায়ক ঘরোয়া পদ্ধতি। কিন্তু এটিকে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়। বর্ষায় মশার উৎপাত কমাতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল নষ্ট করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষিত প্রতিরোধব্যবস্থা ব্যবহার করা।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন