দেশজুড়ে

জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

 পাবনার ঈশ্বরদীতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোবারক হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে  উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মোবারক হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তাঁরা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মোবারক হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে যেন কোনোভাবেই অপরাধের দায় এড়াতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। এ সময় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন বক্তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন শিশুটির বাবা আমিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও বিপ্লব হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহনাজ পারভীন মাহফুজা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাফরুহা পারভীন চামেলী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেদায়াতুল ইসলাম অনিক এবং জেলা কৃষক দলের সহ-অর্থ সম্পাদক আবু তালেব জোয়ার্দ্দার।

এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামাণিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে কৌশলে মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান মোবারক হোসেন। সেখানে শিশুটির পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তার চিৎকার ও কান্নাকাটিতে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।

 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন