ইমামকে ফাঁসাতে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা, বাদী গ্রেপ্তার
পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম, খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে উল্টো মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে (৬৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি (নম্বর: ৮৬৪/২০২৫) দায়ের করেন জাহানারা বেগম। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (২০০৩ সংশোধনীসহ) ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়েছিল, ওই বছরের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তার ১২ বছর বয়সী নাতনি মসজিদে আরবি পড়তে গেলে তাকে স্টোররুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির এবং আহমাদুল্লাহ।
আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের যে অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়েছিল, তার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ বা সত্যতা মেলেনি।
মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন বলেন, মসজিদ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মালামাল চুরি হচ্ছিল। ঘটনার দিন স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বয়স কম হওয়ায় পুলিশ তখন মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু সেই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন ধর্ষণের মামলা করা হয়। এই মিথ্যা মামলার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাদী জাহানারা বেগমও স্বীকার করেন, তার দুই নাতিকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রাখার কারণেই তিনি আদালতে এই মামলাটি করেছিলেন।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই ওই মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আর/আই