যুদ্ধবিরতি চুক্তি বানচাল করে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বর্বর হামলা চালিয়ে আরও ৪০ জনকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। গেলো ২৪ ঘণ্টায় একের পর এক হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। এরমধ্যে সেন্ট্রাল গাজার একটি ব্যস্ত বাজারে হামলা চালিয়ে ৭ জনকে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয় এই হামলার ফলে গাজা উপত্যকায় মোট নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবননেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সেখানে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬ জন লেবানিজ নিহত হয়েছে।
এর আগে গেলো ২৫ মার্চ ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে গাজাবাসী। তারা ‘হামাস বেরিয়ে যাও’, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাস’ ইত্যাদি স্লোগানের ব্যানারে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
এদিন এদিন জাবালিয়ার শরণার্থী শিবিরের সামনেও মিছিল করে উপত্যকার বাসিন্দারা।
গাজাবাসী প্রশ্ন করেছে ক্ষমতা থেকে হামাস সরে গেলেই যদি যুদ্ধ বন্ধ হবে তবে কেন এখনো গদি ছাড়ছে না কেন গোষ্ঠীটি। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় কোনো জবাব দেয় নি হামাস।
এদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে জানিয়েছে, গেলো ৩ সপ্তাহে গাজা ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সহায়তা প্রবেশ করেনি। ফলে হাজার হাজার গাজাবাসী তীব্র খুদা ও অপুষ্টিতে ভুগবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ২০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১০ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরাইলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির সংখ্যা আপডেট করে ৬১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি উল্লেখ করে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
এমএ//