আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে ‘এপস্টাইন গ্যাং’ বলে কটাক্ষ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই নতুন ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’ শুরু করেছে ইরান। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অভিজাতদের নৈতিকভাবে চাপে ফেলতে তেহরান এবার সামনে আনছে কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা ও শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের নাম।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের দাবি, এই যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে মার্কিন জনগণের যুদ্ধ নয়। বরং ওয়াশিংটনের ‘এপস্টাইন গ্যাং’-এর চাপিয়ে দেয়া এক আগ্রাসন।

তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রচারণার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়া।

রণক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের গর্জনের সমান্তরালে এখন চলছে কথার লড়াইও। মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নৈতিকভাবে বিদ্ধ করতে ইরান এখন হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে কুখ্যাত জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনকে ‘এপস্টাইন নেটওয়ার্কের অবশিষ্টাংশ’ বলে সম্বোধন করছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে। হেগসেথ দাবি করেছিলেন, যুদ্ধের ভয়ে ইরানি নেতারা ‘ইঁদুরের মতো’ গর্তে লুকিয়ে আছেন। এর জবাবে ১৩ মার্চ তেহরানে আল-কুদস দিবসের জনসমুদ্রে নেতাদের উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে লারিজানি খোঁচা মেরে বলেন, মিস্টার হেগসেথ! আমাদের নেতারা জনগণের মাঝেই আছেন। কিন্তু আপনাদের নেতারা? তারা তো এপস্টাইনের দ্বীপে!

লারিজানি আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এপস্টাইন নেটওয়ার্কের সদস্যরা নতুন একটি ‘৯/১১’ সদৃশ ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান এ ধরনের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিরোধী। মার্কিন জনগণের সাথে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই; আমরা কেবল আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছি।

অপারেশন এপিক ফিউরি বনাম ‘এপস্টাইন ফিউরি’

আমেরিকা এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সমর্থক ও অনেক পশ্চিমা সমালোচক একে ব্যঙ্গ করে ডাকছেন ‘অপারেশন এপস্টাইন ফিউরি’ নামে। তাদের দাবি, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধ শুরু করেছে। এমনকি কট্টর ডানপন্থী মার্কিন ধারাভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্স যুদ্ধের প্রথম দিনেই একটি এআই-জেনারেটেড ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন- ‘অপারেশন এপস্টাইন ফিউরি পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা হলো’।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই আক্রমণে যোগ দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন গালিবাফ কড়া ভাষায় জবাব দেন, ইরানের ভাগ্য কেবল গর্বিত ইরানি জাতিই নির্ধারণ করবে, এপস্টাইনের গ্যাং নয়।

ইরান এই কৌশলের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে চাইছে, আমেরিকার বর্তমান নেতৃত্ব নৈতিকভাবে দেউলিয়া এবং তারা ইসরাইলের স্বার্থে একটি অবৈধ যুদ্ধ পরিচালনা করছে। যুদ্ধের ময়দানে রক্তক্ষয়ের পাশাপাশি এই ‘চরিত্র হননের’ লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক নতুন ও বিচিত্র মাত্রা দিয়েছে।

তথ্যসুত্র: মিডিল ইস্ট আই

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরাইল #ইরান #জেফরি এপস্টাইন