ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৯ জুলাই নিজ শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করা হবে।
শনিবার (১৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী শোক ও জানাজার কর্মসূচি পালন করা হবে। পরে ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে আরেকটি শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আনুষ্ঠানিকতা।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। প্রথমে গেল মার্চে তার দাফনের পরিকল্পনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত রাখা হয়।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন আলী খামেনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতে তার প্রভাব ছিল গভীর।
ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে মনে করা হয়।
খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে খুব কম দেখা গেছে।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এমএ//