শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক পুলিশ সদস্যরা কয়েকদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলো বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত ১টার দিকে ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিপণ নিতে গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আজ শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ ও ব্যবসায়ী সমিতি জানায়,গত রাতে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন লোক ফয়সাল ও জুয়েল নামে দুই ব্যবসায়ীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। অপহরণকারীরা দুই ব্যবসায়ীর কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করে।
পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ী তাদের ৪ লাখ টাকা দেন। আরও ৬ লাখ টাকা দেয়ার জন্য তারা দুজন ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাওয়ার কথা বলেন। সেখানে যাওয়ার পর ওই দুই ব্যবসায়ী গাড়ি থেকে চিৎকার করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে গাড়িটি আটক করে ও অপহরণকারীদের পিটুনি দেয়। এরপর সেখানে পুলিশ এসে দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ও চার অপহরণকারীকে আটক করে। তবে, গাড়িতে থাকা আরও ৪ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের পর ওই দুই ব্যবসায়ী জানান, 'অপহরণকারীরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের হাতে হাতকড়া পরায় ও পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেয়। তারা ১০ লাখ টাকা দিতে রাজি হওয়ার পরও তাদের লোহার রড দিয়ে পেটায়, কিল-ঘুষি মারে। পরে তাদের মাদারীপুর লেক পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা ৪ লাখ টাকা দেন।
এ ঘটনায় আটককৃতরা হলেন, পুলিশ কনস্টেবল কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০), কাউসার তালুকদার (২৯), চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য রুবায়েত মীর (২৭) ও কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার শরীফ হোসেন (৩৫)।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, আটক ৪ জনের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। আর পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য আছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফয়সালের ভাই স্বাধীন সরদার বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করেছেন।
আই/এ