ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নেওয়ার দাবিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়া, ইরান, কিউবাসহ একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) ভোরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে বিমানে করে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
হামলার পর এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, ভেনেজুয়েলা একটি ‘নতুন ভোর’ দেখেছে এবং একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটেছে, যিনি এখন তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবেন।
তবে ভেনেজুয়েলা সরকার এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানায়, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে এই হামলার আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দা জানানো উচিত।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার জানান, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত নয়। তিনি বলেন, মাদুরোকে আটক করার বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। কলম্বিয়া সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেন, শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষা সব ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।
রাশিয়া এই ঘটনাকে ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান ও কিউবা হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর অভিযোগ তুলে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে।
স্পেন সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ সম্পর্কে বিশ্বকে কথা বলতে হবে।’