কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক পাকুন্দিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের অসুস্থতার ভুয়া খবর ছড়িয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটনের বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ঘটনাটি ঘটলেও। আজ (৬ জানুয়ারি) ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, স্বপন ও অভিযুক্ত ছোটন দুজনই পাকুন্দিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আগে থেকেই পরিচিত। যুবদল নেতা ছোটন ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিল ছিলেন।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে রাকিবুল আলম ছোটন স্বপনের বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাকি তার মাধ্যমে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় বলা হয়, কারাগারে থাকা মোতায়েম হোসেন স্বপন স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে হার্টে দুটি রিং পরাতে না পারলে তিনি বাঁচবেন না। এজন্য দ্রুত ৮০ হাজার টাকা পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
ছোটন কথিত এক চিকিৎসক ও জেল সুপারের বিকাশ নম্বরও পরিবারের হাতে তুলে দেন। আতঙ্কিত পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে ওই কথিত জেল সুপার চিকিৎসকের দুই নাম্বারে ৩৫ হাজার টাকা বিকাশ করে। পরে আরও ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পাকুন্দিয়া আওয়ামী লীগের একজন অভিভাবকের সহায়তায় ঢাকায় লোক পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোতায়েম হোসেন স্বপন নামে কোনো রোগী ভর্তি নেই।
এরপর পাকুন্দিয়া থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য থানায় আসেনি। জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, মোতায়েম হোসেন স্বপন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ঘটনার পর স্বপনের পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে এমন মিথ্যা খবর দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চরম অমানবিক কাজ।
স্বপনের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন শিশির বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের এলাকার সাবেক কমিশনার ও যুবদল নেতা রাকিবুল আলম ছোটন। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এভাবে প্রতারণা করতে পারেন, তা ভাবতেই অবাক লাগছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছোটনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দীন বলেন, এই বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আগমীকালকে আমাদের একটি মিটিং রয়েছে সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান বলেন, “কারাগারে কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। এ বিষয়ে তদারকির জন্য আমি কাউকে দায়িত্ব দিইনি, এমনকি ওসি অফিস থেকে কোনো বার্তাও পাঠানো হয়নি।”
এ বিষয়ে কথা বলতে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সরকারি তথ্য বাতায়নে দেওয়া জেল সুপার রীতেশ চাকমা ও জেলার ফারহানা আক্তারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তাঁরা কল রিসিভ করেননি।
আই/এ