নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে চলমান বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সারা দেশে বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার, আহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
দূতাবাস আরও জানায়, সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বন্ধ, গণপরিবহন চলাচলে বিঘ্ন এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘ইরান সরকার মোবাইল, ল্যান্ডলাইন এবং জাতীয় ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। এয়ারলাইনগুলো ইরান থেকে ও ইরানে ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে, এবং বেশ কয়েকটি সংস্থা ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।
মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, স্থলপথে আর্মেনিয়া ও তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার কথা বিবেচনা করতে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারনেট বিভ্রাটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে হবে এবং যদি নিরাপদ হয়, তবে স্থলপথে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার কথা বিবেচনা করতে হবে।’
জোর দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘এখনই ইরান ত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ইরান ত্যাগের পরিকল্পনা রাখুন।’
যারা ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের জন্য দূতাবাস নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সতর্কবার্তায় বিশেষ করে ‘দ্বৈত নাগরিকদের’ জন্য গুরুতর ঝুঁকির কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। ‘মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করতে হলে ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে,’ এতে বলা হয়।
আরও বলা হয়, ‘মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার এবং আটক হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দেখানোই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।’
এসি//