গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব ইউরোপ প্রত্যাখ্যান করলে শতভাগ নিশ্চিতভাবেই শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বক্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলো একজোট হয়েছে। ন্যাটোর ভেতর নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে পারে না। একই সুরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াভেট কুপার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণ ও ডেনমার্কের।
এর আগে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর আরও সাতটি মিত্র দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে, যা ১ জুন থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে—যতদিন না গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়।
এই শুল্ক ব্যবস্থা ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে—যারা সবাই ন্যাটোর সদস্য।
মঙ্গলবার ভোরে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার ফোনালাপ “খুব ভালো” হয়েছে এবং এই সপ্তাহেই সুইজারল্যান্ডে একাধিক পক্ষের বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে আর দেরি করা যাবে না।
এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি শতভাগ এই শুল্ক আরোপ করব।” গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “নো কমেন্ট।”
ইউরোপীয় দেশগুলো এ হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছে। ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এরই মধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ প্রতীকীভাবে সেখানে সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে, যার পরপরই ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন বলেন, শুল্কের হুমকি কোনো সমাধান নয় এবং ইউরোপকে এখন পরিষ্কারভাবে সীমারেখা টেনে দিতে হবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জও শুল্ক আরোপকে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন এবং বাণিজ্য যুদ্ধ এড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, সংঘাত চায় না ইউরোপ, তবে সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপসও হবে না। তিনি বলেন, “শুল্কের হুমকি দিয়ে সমাধান আসে না, আর সার্বভৌমত্ব কোনো বিক্রির পণ্য নয়।”
অন্যদিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে ট্রাম্পের টেক্সট বার্তাও আলোচনায় এসেছে। সেখানে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করেন। জবাবে স্টোর বলেন, এই পুরস্কার একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে এবং নরওয়ে সরকার এর সঙ্গে জড়িত নয়।
সবশেষে নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক বিমান পাঠিয়েছে। তবে এটি নিয়মিত ও পূর্বনির্ধারিত সামরিক কার্যক্রমের অংশ এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে তারা।
এমএ//