ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে উঠেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, খামেনির দিকে আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবোলফজল শেখারচি বলেন, “ ট্রাম্প ভালো করেই জানেন আমাদের নেতার দিকে যদি আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলব না, বরং তাদের পুরো দুনিয়ায় আগুন জ্বালিয়ে দেব।”
এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য।
মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খামেনিকে ‘অসুস্থ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানের জন্য নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে এবং খামেনির প্রায় চার দশকের শাসনের অবসান হওয়া উচিৎ।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযান চালানো হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন খোদ আয়াতুল্লাহ খামেনি, যদিও তিনি এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা বিক্ষোভের পর গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ইরানের জন্য ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল হবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। পাশাপাশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে ইরানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বহু মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এসি//