রাজনীতি

ক্ষমতায় এলে সব ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাচ্ছে—একটি সাধারণ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামি। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো আধিপত্য মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। তরুণ প্রজন্ম কখনো মাথা নত করবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, গেল সাড়ে ১৫ বছরে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের অর্থনীতি, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক, বীমা, করপোরেট ও শিল্পখাতকে দুর্বল করা হয়েছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যার বোঝা আজ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, দলটি সরকার গঠন করতে পারলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে। আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে—একই অপরাধে একজন সাধারণ মানুষ যেমন শাস্তি পাবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও আইন একইভাবে কার্যকর হবে, ইনশাআল্লাহ।

নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে নারীদের চলাচল, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম নারীদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সুযোগও থাকবে না। নারীর সম্মান রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। তরুণদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব তুলে দিতে চায়, যাতে তারা গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—তারা এই দেশের গর্বিত নাগরিক।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জামায়াতে ইসলামী #ডা. শফিকুর রহমান।