অর্থনীতি

আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন লাগে ১০ লাখ: আজম জে চৌধুরী

বায়ান্ন প্রতিবেদন

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র সামনে এনেছেন দেশের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। তিনি বলেন, সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে ঘুষের চাপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে যেখানে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়।

মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন না আসায় পরিস্থিতিটিকে তিনি গভীরভাবে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা বাস্তবতায় কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আজম জে চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, এই সরকার মূলত এনজিও স্টাইলে দেশ চালানোর চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের কোনো মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তিনি বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভূমি অফিসগুলোতে হয়রানির কথা উল্লেখ করে জানান যে, জমির মিউটেশনসহ অন্যান্য কাজে এখন এলআর ফান্ডের নামে আকাশচুম্বী অর্থ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি যদি না কমে এবং ঘুষের হার যদি বহুগুণ বেড়ে যায়, তবে তাকে কি আদৌ সংস্কার বলা যায়? মাইক্রো লেভেলে অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির এই ভয়াবহতা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও তিনি মনে করেন।

সেমিনারে তিনি বন্দর ও কাস্টমসের অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, কোনো পণ্য আমদানির পর তা এক মাসের বেশি সময় বন্দরে আটকে থাকা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি, কিন্তু ‘এনজিওদের সরকার’ তা করছে না। 

বক্তব্যে তিনি জ্বালানি খাতে চলমান সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি, কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতির দিকেও ইঙ্গিত করেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উপস্থিতিতেই আজম জে চৌধুরীর এই সরাসরি ও স্পষ্ট অভিযোগ উঠে আসে, যা ইতোমধ্যে দেশের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

 

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #অন্তর্বর্তী সরকার #আজম জে চৌধুরী #ইস্ট কোস্ট গ্রুপ #দুর্নীতি #ঘুষ