পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগকে কেন্দ্র করে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে টাকা দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ধূলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। ঘটনার পর তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ বাসভবনে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে থাকা চেয়ারম্যানের হাতে কয়েক বান্ডিল টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জন্যও টাকা দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, ধূলাসার ইউনিয়নে চারটি গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগের বিপরীতে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে ছয় নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর আগে কলাপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১৬টি গ্রাম পুলিশ পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এসব পদের জন্য মোট ৮২ জন আবেদন করেছিলেন।
৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং একই দিন বিকেলে লিখিত পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহব্বত খান দাবি করেন, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে একটি বৈঠকে ছিলেন। অন্য সদস্য স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তার জানা নেই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। উপজেলা প্রশাসনের শোকজ নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। তবে ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল রানা জানান, অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে জবাব জেলা প্রশাসনে পাঠানো হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী'র কাছে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তায় বার্তায় বিষয়টি নিয়ে ইউএনও'র সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।
এমএ//