রাজনীতি

শালীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে খুন, গ্রেপ্তার ২

নিহত রাজু মিঞা

শালীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের পরে সেই শালীর অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় ক্ষোভ জমা হয় দুলাভাইয়েরসেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামী রাজু মিঞাকে (১৯)  ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায়  মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফিরোজ গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার কোতোয়ালী থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ফিরোজের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায়। তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ফটিকছড়ির ধর্মপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। ওই সময় ফিরোজ তার স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে তার শালী প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।  সম্প্রতি সেই রাজুর সঙ্গে ফিরোজের শালীর বিয়ে হয়।

এই বিয়েকে কেন্দ্র করে ফিরোজ আহাম্মদ ও তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে সামাজিক মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। একপর্যায়ে তারা রাজু মিঞাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

মো. রাসেল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাতে ফিরোজ আহাম্মদ কৌশলে রাজুকে তার স্ত্রীর একটি থ্রি-পিস দেওয়ার কথা বলে খনখাইয়া খালের পাড়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পেট, গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়।

হত্যার পর আসামি মরদেহ খালের ঢালে বালিচাপা দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি খালের পানিতে ফেলে দেন। রাজুর সঙ্গে থাকা থ্রি-পিসটি পাশের সেগুন বাগানে ফেলে দিয়ে তিনি প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লায় পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অনুসন্ধানে ফিরোজের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। ফিরোজকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তী অভিযানে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত অপর আসামি ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে খনখাইয়া খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেগুন বাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়।

গত ২১ জানুয়ারি রাতে  দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন রাজুএরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেনখোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #শালী