যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার উদ্দেশে আবারও সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। আগামী ২৯ মার্চ স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে এ অভিযানের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, এবার আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সহায়তা বহরটি গাজার উদ্দেশে রওনা হবে।
এ সংক্রান্ত এক লাইভস্ট্রিম সংবাদ সম্মেলন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগঠনের কর্মী সুমেয়রা আকদেনিজ ওর্দু জানান, ঐতিহাসিক প্রথম প্রস্থানস্থল বার্সেলোনা থেকেই নৌযাত্রা শুরু হবে। পরে তিউনিসিয়া, ইতালি এবং ভূমধ্যসাগরের আরও কয়েকটি বন্দর থেকে বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, এবারের অভিযানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হবে কয়েক হাজার। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নির্মাণকর্মী ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরাও যুক্ত হবেন, যা আগের অভিযানের তুলনায় বড় পার্থক্য তৈরি করবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এ নৌ অভিযান মূলত ‘ট্রাম্প পরিকল্পনার বিকল্প’। এতে ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং তারা নিজেদের মাতৃভূমি পুনর্গঠনের বিষয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক কর্মী জানান, সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলপথেও ‘নতুন সুমুদ স্থলবহর’ নামে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই বহরে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্যসামগ্রীসহ গাজাবাসীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকবে। চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মতো পেশাজীবীরাও এতে অংশ নেবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বহরটি উত্তর আফ্রিকা থেকে যাত্রা শুরু করে মিসর অতিক্রম করে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছাবে।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ এশিয়া থেকেও আরেকটি স্থলবহর যাত্রা করবে, যার বিস্তারিত শিগগির প্রকাশ করা হবে। তার অভিযোগ, কাগজে-কলমে রাফাহ ক্রসিং খোলা থাকলেও বাস্তবে নানা বাধার কারণে মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই মানবশক্তিনির্ভর করিডোর গড়ে তোলাকে তারা দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
এক কর্মী তুরস্কের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন ও গাজার প্রতি তুর্কি জনগণের সমর্থন সুপরিচিত। তাই তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন তারা।
চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, তার সরকার গাজার জন্য পরবর্তী সুমুদ অভিযানে সরাসরি সম্পৃক্ত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম গ্লোবাল সুমুদ সমুদ্র অভিযান শুরু হয়। ওই বছরের অক্টোবরে ইসরাইলি নৌবাহিনী মানবিক সহায়তা বহরের ৪০টির বেশি নৌযান জব্দ করে এবং ৪৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে আটক করে। মুক্তি পাওয়া অনেকেই পরবর্তীতে বন্দিদশায় নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
প্রায় ২৪ লাখ মানুষের আবাসস্থল গাজা উপত্যকা প্রায় ১৮ বছর ধরে অবরোধের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ আটকে দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। একই সঙ্গে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
এমএ//