দেশজুড়ে

মুড়িকাটা পেঁয়াজে লোকসান, দিশেহারা কৃষক

তুহিন হোসেন, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের আশাব্যঞ্জক ফলন হলেও লোকসানে দিশেহারা প্রান্তিক পর্যায়ের পেঁয়াজ চাষীরা মওসুমের শুরুতে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষীরা প্রত্যাশার অধিক মূল্য পেলেও সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে বাজারদর। কয়েক সপ্তাহের  ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদরে নেমে এসেছে ধ্বস। বর্তমানে মণ প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকরা।

লোকসানের কারণ হিসেবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুন দামে সার ক্রয় করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারদরের অস্বাভাবিক পতন কে দায়ী করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।  উচ্চ মূল্যে সার বিক্রয়ের পিছনে সার বাজার মনিটরিং কমিটির গাফিলতি ও উপজেলা কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করেন তারা।

লোকসান থেকে বাঁচতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ সহ সরকারের নিকট মুড়িকাটা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত পাবনার পেঁয়াজ চাষীরা।

পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া,বেড়া ও সদর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে চলতি বছর। কৃষি জমি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। এখানকার উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী (ঢাকা) সহ দেশে ২৮-৩০টি জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্যানুযায়ী এবছর জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল  ৮৯৬০ (১ হেক্টর=৭.৪৭ বিঘা) হেক্টর ও হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫.৮৮ মেট্রিক টন (বিঘাপ্রতি ৫৩.১৪ মণ)। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ১,৪০০ টাকা (কেজি ৩৫ টাকা) যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্যের  দ্বিগুণ দামে সার ক্রয় করায় কৃষকের খরচ হয়েছে আরও অনেক বেশি। গত ১ সপ্তাহে পাবনার সুজানগর, বেড়া, চিনাখড়া,বনগ্রাম, সাঁথিয়া ও কাশিনাথপুর হাঁট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর ৮০০-১০০০ টাকা যা উৎপাদন খরচের অনেক কম।

কাশিনাথপুর হাঁটে পেঁয়াজ বিক্রয় করতে আসা কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, এবছর আমি  ৩ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপন করি। উৎপাদন ভালো হলেও খরচ বেশি হয়েছে। বাজারের যা অবস্থা তাতে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।

বেড়া সিএন্ডবি চতুর হাঁটে পেয়াজ বিক্রেতা শামসুল জানান, সরকারি ডিলারের কাছে সার না পেয়ে বাইরের দোকান থেকে সার ক্রয় করায় এবছর উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে, বাজারের যা অবস্থা আগামী বছর থেকে পেঁয়াজ চাষ বাদ দিতে হবে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাফিউল ইসলাম বলেন,এবছর বিদেশ থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, নতুন করে কোন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে না। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে প্রতিবছরের তুলনায় পেঁয়াজ বীজের দাম কম থাকায় এবছর উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। এরপরও মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর সর্বনিম্ন ১২০০-১৪০০ টাকা মণ হওয়া উচিত।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পেঁয়াজ #পাবনা