রাজধানী

রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম শাহিন আলম (২১)।

রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পল্টন এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশ থেকে নিহতের খণ্ডিত একটি পা উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়ামসংলগ্ন গেটের পাশ থেকে দুটি পূর্ণাঙ্গ হাত এবং দুপুর ২টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে অপর একটি পা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে মতিঝিল থানাধীন হীরাঝিল হোটেল-এর সামনে অভিযান চালিয়ে শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কবি জসীমউদ্দীন সড়কের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ভিকটিমের মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার রাত ১১টার দিকে মাতুয়াইলের ময়লার ভাগাড় থেকে খণ্ডিত মস্তক এবং রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমিনবাজারের সালেহপুর সেতুর নিচ থেকে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ (৩০) রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকে বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শাহিন তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানের একটি হোটেলে কাজ নেন। পরে কমলাপুরে পরিচিতজনের বাসায় ওঠেন এবং গেল দুই মাস ধরে ভিকটিমের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি হীরাঝিল হোটেলে কাজ নেন।

গেল ২৭ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ খণ্ডিত করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন শাহিন।

এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত আছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #রাজধানী #ডিএমপি #মরদেহ উদ্ধার #পল্টন মডেল থানা