যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করা হবে। ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং খামেনির জন্মস্থান। শহরটির ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সেই তার বাবার কবর অবস্থিত। সেখানেই তাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালেই এ হামলা ঘটে। ওই অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
এই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। খামেনি নিহত হওয়ার পর রোববার থেকে তেহরান হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০-র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ নামে প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল; অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত হানার দাবি করে পেন্টাগন। টানা ১২ দিনের সংঘাত শেষে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সেই অমীমাংসিত উত্তেজনাই চলতি বছরের নতুন সংকটের ভিত্তি তৈরি করে।
এসি//