অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ‘লন্ডন কন্সপিরেসি’র জনক আখ্যা দিয়ে অপসারনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ‘স্বঘোষিত রাজসাক্ষী’ উল্লেখ করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি বলেন, ‘ প্রায় ৫৩টি আসনে আমরা অফিশিয়ালি অভিযোগ দাখিল করেছি এবং সেই ভিত্তিতে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবো। গতকাল আমরা একজন ‘রাজসাক্ষী’ পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষী হচ্ছেন সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান। তিনি একজন সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করেছেন যে, যারা তার ভাষায় নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি’।
তাহের বলেন, এতে বোঝা যায় জামায়াত যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলে আসছিল,সেট নিজেই স্বীকার করে সাবেক উপদেষ্টা রাজসাক্ষী হয়েছেন। তার কাছে এবং তৎকালীন সরকারের কাছে এবং বর্তমান সরকারের কাছে জামায়াত জানতে চায়- কাদের যোগসাজশে এবং কী ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে মেজোরিটি আসন পেতে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে?
বিরোধী দলীয় উপনেতা প্রশ্ন রাখেন, এ প্রক্রিয়া কি পুরো গভর্নমেন্ট ছিল, নাকি সরকারের কোনো শক্তিশালী অংশ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে? তাদের ডিজাইন অনুসারে ডিসি, এসপি, টিএনও, ওসি ও প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না- তা জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেও কয়েকজন উপদেষ্টার ব্যাপারে জামায়াত অভিযোগ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। নীতিগতভাবে কথা ছিল যে, উপদেষ্টারা পরবর্তী কোনো দলীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবেন না। অথচ সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান প্রথম দিনেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যা তার আগের শপথের পরিপন্থী। এটা স্পষ্ট যে, খলিলুর রহমান ছিলেন ‘লন্ডন কন্সপিরেসি’র প্রধান। সেখান থেকে তিনি ষড়যন্ত্র করে বর্তমান সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন এবং পুরস্কার হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদ নিজেই বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তাকে সরকার থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই খলিলুর রহমান নিশ্চয়ই বিএনপির সঙ্গে গোপনে কোনো চুক্তিতে গিয়েছিলেন যে, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে বিএনপিকে নির্বাচনে সহায়তা করবেন এবং বিনিময়ে তাকে মন্ত্রী বানানো হবে।
এ জামায়ত নেতা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হতো, তারাই সরকার গঠন করত— এটাই ছিল জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু এই মীর জাফররা সেই আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। স্বচ্ছতার স্বার্থে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে তাকে ও সৈয়দা রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন প্রমুখ।
আই/এ